ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষকসহ ১০জন শিক্ষকের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা ছুটি ছাড়াই একসঙ্গে এতজন শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
সরেজমিনে বেলা ২টায় বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীশূন্য। প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা ছুটি সংক্রান্ত লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারেন না। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দেরিতে আগমন বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা সরকারি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন এবং ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য। এছাড়াও সরকারি নির্দেশনায় শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করা ও যথাসময়ে পাঠদান পরিচালনার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের পর শিক্ষার মান বাড়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের এমন দায়িত্বহীনতায় পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত থেকে পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীরা স্কুল বিমুখ হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে ভীড় জমাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা মুখ খুলতে না চাইলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত না থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন।
এবিষয়ে বিদ্যালয়য়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মোস্তফা কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ময়মনসিংহে আছি। ৯জন সহকারী শিক্ষকের অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সকাল ১০টায় স্কুলে এসে দুপুর পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীর পাঠদান করে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন। বিদ্যালয় ত্যাগের কারণ জানতে চাইলে বলেন, নির্বাচনী পরিক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার জন্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, শিক্ষকদের অনুপস্থিত সরকারি বিধিমালা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষাক আমার কাছ থেকে কোন ছুটি নেননি। সহকারী শিক্ষকরা ছুটির আবেদন ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকলে তারা সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।