মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার নাম সততা আর কৃতজ্ঞতা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, টাকার প্রলোভনের কাছে এই দুই গুণ আজ প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। বিশেষ করে গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অনেক সময় উপকারকারীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে তারা চোখ ভিজিয়ে অসহায়ত্বের গল্প শোনায়, হৃদয়বিদারক আর্তনাদে করুণ দৃশ্য সৃষ্টি করে। মানবিক হৃদয়ের মানুষ তখন নিজের স্বার্থ ভুলে, সময়, শ্রম, এমনকি নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়।
কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। যাদের জন্য এত ত্যাগ, এত সংগ্রাম, তারা মুহূর্তেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি যারা রক্তের সম্পর্কের থেকেও কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিল, তারাই এক সময় শত্রুতে পরিণত হয়। অভিযোগ বা মামলা করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে নানা গড়িমসি, দেরি বা অনীহা দেখা গেলেও, সুপারিশ ও অনুরোধের ফলে অবশেষে তা সম্পন্ন হয়। অথচ কিছুদিন না যেতেই, লেনদেনের মাধ্যমে বাদী-বিবাদী এক টেবিলে বসে হাসিমুখে সমাধান করে ফেলে। আর এই খবর থাকে না সুপারিশকারীর কাছে, না থাকে যারা সহযোগিতা করেছিল তাদের কাছে।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হল, যাদের জন্য এই লড়াই, তারা একবার টাকা হাতে পেলেই উপকারকারীর সাথে সম্পর্ক অস্বীকার করে, এমনকি পেছনে অপবাদ দিতেও দ্বিধা করে না। এতে শুধু একজনের মনোবল ভাঙে না, বরং প্রমাণ হয়, মানবিকতার দাম আজ টাকার চেয়ে কম।
অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে এই তিক্ত বাস্তবতার। দিনের আলোয় যারা কৃতজ্ঞতার শপথ নেয়, তারা রাতের আঁধারে চুক্তি ভেঙে দেয়। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী কিংবা সৎ সহায়তাকারী, যেই হোন না কেন, তারা এখন বুঝে গেছেন, সহায়তার হাত যত বাড়ানো যায়, বিশ্বাসের হাত ততটাই সাবধানে বাড়ানো উচিত। কারণ একবার টাকা পকেটে ঢুকলেই অনেক মুখোশ খুলে যায়, আর বেরিয়ে আসে সেই নির্মম চেহারা, যেখানে কৃতজ্ঞতার জায়গা দখল করে বিশ্বাসঘাতকতা, আর মানবতার আসনে বসে ঠাণ্ডা স্বার্থপরতা।