তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃবৃন্দের ওপর সংগঠিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ফুলপুরে বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শান্তিপূর্ণভাবে ‘অবস্থান কর্মসূচি’ পালন করা হয়েছে।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর এলাকায় জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্র সমন্বয়কদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন পর্যায়ের সমর্থক ও সচেতন নাগরিকরা। নেতৃত্বে ছিলেন রাশেদুল ইসলাম, হিয়ন কবির মন্ডল, সাদেকসহ আরও অনেকে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরপুর, হালুয়াঘাট ও ময়মনসিংহগামী তিনটি সড়কের সংযোগস্থলে প্রতীকীভাবে বসে থাকা হয়। প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী এ অবস্থান কর্মসূচিতে কিছু পুরনো ব্যানার ও কাঠামোয় প্রতীকী আগুন ধরানো হয়। এতে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও বড় ধরনের কোনো অসুবিধা হয়নি। উপস্থিত নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং কোনো ধরনের উত্তেজনা বা হট্টগোল ছাড়াই বার্তা পৌঁছে দেন।
নেতাকর্মীরা জানান, “আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, সহিংসতার বিরুদ্ধে। দেশের সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গোপালগঞ্জের ঘটনাটি অনভিপ্রেত, এবং আমরা চাই, সকলের প্রতি সম্মান রেখে সকলেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করুক।”
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল হাদি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার অনুরোধ জানান। নেতাকর্মীরা তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কর্মসূচিটি ছিল শান্তিপূর্ণ ও প্রতীকী। তারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মসূচিতে দায়িত্বশীল আচরণ সকলের পক্ষ থেকে কাম্য। কেউ কেউ বলেন, “প্রতিবাদ হোক শৃঙ্খলিত, যাতে বার্তাও পৌঁছায়, জনদুর্ভোগও না হয়।”
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চললেও ফুলপুরে কর্মসূচিটি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ও পরিপূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ। রাজনৈতিক সচেতনতা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার এক সংযত উদাহরণ হিসেবে এ কর্মসূচিকে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।