মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
গভীর রাতের গৌরীপুর। হাটের শেষ চায়ের দোকানটিও যখন বন্ধ হওয়ার পথে, তখনও দেখা যায় মানুষের ভিড়, একজন নেতাকে ঘিরে। তার নাম আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম আম্বায়ক তৃণমূল বিএনপির পরিচিত মুখ, এবং আজ গৌরীপুরের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত জননেতা।
গৌরীপুর–৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন। কিন্তু সেই ঘোষণা বাবুলের রাজনীতিকে এক মুহূর্তের জন্যও থামাতে পারেনি।
বরং মানুষের চোখে তিনি আরও বড় হয়ে উঠেছেন তাঁর মৌলিক অবস্থানের জন্য,
দলের প্রতি আনুগত্য, তৃণমূলে দৃঢ় উপস্থিতি, এবং জনগণকে নিজের রাজনৈতিক পরিবার মনে করার মানসিকতা।
৩১ দফা নিয়ে ঘরে ঘরে বাবুল নারী, যুবক, কৃষক সবাই শুনছেন তাঁর কথা। বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে বাবুলের প্রচারণা এখন একটি আলাদা ধারা তৈরি করেছে। তার প্রচারের ধরণও ব্যতিক্রমী,
লোভ দেখানো নয়, দেওয়াল ভাঙা ভাষণ নয়,
মাইকে চড়া স্লোগান নয়। তিনি মানুষের পাশে বসেন। চায়ের টং দোকানে গোল হয়ে আলোচনা করেন। কৃষকের ধানের জমির আল ধরে হাঁটতে হাঁটতে বলেন ৩১ দফার কথা। ৩১ দফার প্রতিটি পয়েন্ট তিনি ব্যাখ্যা করেন স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে, কৃষকের ন্যায্য মূল্য,বিচারপতির-বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন, যুবকদের কর্মসংস্থান,রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ, তার কথার ভঙ্গি সরল, সোজা, বিশ্বাসযোগ্য। তাই তৃণমূলে তার বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
গৌরীপুরে রাজনীতি মানেই দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় নাম, উঁচু চেয়ার, এবং ক্ষমতার প্রভাব।
কিন্তু বাবুল সেখানে এনেছেন নতুন ভাষা,
তৃণমূলভিত্তিক গণরাজনীতি।
রামগোপালপুরের বৃদ্ধ আক্কাস আলী বলেন, ধানের শীষের ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি বাবুল মানুষের দুঃখ–কষ্ট বুঝে, এমন নেতা এখন আর পাওয়া যায় না। এমন প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে, তৃণমূলের রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান কতটা দৃঢ়।
দিনের প্রচারণা শেষে রাতে দোয়া মাহফিল,
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় এলাকাজুড়ে বাবুলের আয়োজিত দোয়ার মাহফিলগুলো এখন মানুষের মিলনমেলা।
জাতীয়তাবাদী উলামাদল সহ , স্থানীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ, সবাই সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছেন। বাবুলের প্রচারণা আর শুধু গৌরীপুরে সীমাবদ্ধ নয়।
ফুলপুর, তারাকান্দা—সব জায়গায় তিনি নিরলস প্রচারণা করছেন ধানের শীষের পক্ষে।
যেখানেই যান, তরুণদের ভিড়, কৃষকদের উপস্থিতি, নারীদের আগ্রহ যেন জননেতায় পরিণত হয়েছেন।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, মনোনয়ন না পেয়েও একজন নেতা যখন দলের পাশে থাকে, সেটাই তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।
তার কর্মস্পৃহা, সততা ও বিনয় তাকে দলের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বাবুল।
এই সময়ের রাজনীতি যেখানে বিভাজন, অভিযোগ আর উত্তেজনা, সেখানে বাবুলের রাজনীতি শান্ত, নির্ভরযোগ্য, ইতিবাচক।
তিনি মানুষের সমস্যার কথা শোনেন, সমাধান খোঁজেন। তিনি ব্যস্ত আসনে নিজের জায়গা তৈরির লড়াই করেননি, বরং জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল ভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ যদি কেউ তৈরি করতে পারে, তার নাম বাবুল।
ধূলিমাখা পথ, গ্রামের মোড়, ঠাণ্ডা রাতের চায়ের আসর, সেখানে বাবুলের উপস্থিতি আজ এক স্বস্তির নিঃশ্বাস।
তিনি মনোনয়ন পান বা না পান
তৃণমূলের মানুষ তার প্রতি আস্থায় অটল।
কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন—
নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখে কর্ম, আর কর্ম টিকিয়ে রাখে মানুষের বিশ্বাস। বাবুল আজ সেই বিশ্বাসের নাম।