মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় গ্রামগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, এই গণজাগরণ দেখে কিছু দলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ফলে তারা বিএনপির শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় কর্মসূচির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলতে দ্বিধা করছে না।
রবিবার সকালে ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের ডুমঘাটা গ্রামে আয়োজিত এক মহিলা সংগঠকদের বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিন্স বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারতের মতো কর্মসূচির বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নারীর শিক্ষা, ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি একটি নারী-বান্ধব রাজনৈতিক দল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। যখনই ভোটের সুযোগ এসেছে, নারীরা বিপুলভাবে বিএনপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এবারও ইনশাআল্লাহ নারীরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেবেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর নামে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হবে। নারী নির্যাতন ও যৌতুক বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এইচএসসি পর্যন্ত অবৈতনিক নারী শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার ইচ্ছা ছিল ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করার, যা ইনশাআল্লাহ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি কৃষিখাতের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরে বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে একটি ফসলের উৎপাদন খরচ দেওয়া হবে। প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, শস্য-মৎস্য-পোল্ট্রি বীমা চালু, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য ৫০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরে একই দিন সকালে এমরান সালেহ প্রিন্স ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের মান্দালিয়া, পশ্চিম শালকোনা, দক্ষিণ বাঘবেড়, আনন্দ বাজার, খামার পাশা চৌরাস্তা, মিলন বাজার ও চাড়িয়া বাজারে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশার কথা শোনেন।
মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। মাঠে-ময়দানে থেকে মানুষের কথা শোনা এবং সে অনুযায়ী রাজনীতি করাই বিএনপির লক্ষ্য।
অনুষ্ঠান ও গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ রাব্বানী সুমন, আব্দুল কুদ্দুস, মাহবুবুল আলম বাবুল, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা খলিলুর রহমান, তাজুল ইসলাম, আব্দুস শহীদ, এডভোকেট জুবায়ের সোহাগসহ নারী নেত্রী পুষ্প রানী, তাহমিনা আক্তার, নাজমা আক্তার, সহুরা খাতুন, কল্পনা আখতার ও লিলি আখতার প্রমুখ।