
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহে পরপর তিনটি ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
তারাকান্দার দাদরা এলাকায় একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে। তদন্তে নামেন পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ পরিদর্শক (অ্যাডমিন) সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে মূল হত্যাকারীকেও গ্রেফতার করেন তিনি।
এদিকে লক্ষীপুরের ইউপি সদস্য আরিফুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে তারাকান্দায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। মরদেহ গুম করে ঘটনার ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করা হলেও পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিনের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন তিনি।
ত্রিশাল উপজেলার একটি ক্লুলেস মামলায় এক মোটরসাইকেল রাইডারকে হত্যা করে তার বাইক ছিনিয়ে নেয়া হয়। তদন্তে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) অমিতাভ দাস। ঘটনার ক্লু বের করতে প্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল অনুসন্ধান চালিয়ে তিনি হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন।
তিনটি মামলার সফল তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করে আইজিপি মহোদয় তাঁদের প্রত্যেককে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার পুরস্কারের অর্থ তাঁদের হাতে তুলে দেন।
অপরাধ দমনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের এ নজির পিবিআইকে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রে নিয়ে গেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অপরাধীরা আর ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেই মত সংশ্লিষ্টদের।