মোমেনা আক্তার সোনিয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত ছেলের শরীর থেকে বের হয়ে এসেছে নাড়িভুঁড়ি। হাসপাতালের বারান্দায় কান্না থামেনি, কিন্তু বিচার চেয়ে থানায় গেলে শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি—এটাই এখন বাস্তবতা।
ফুলবাড়িয়ার বাদীহাটি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটে ভয়াবহ এই ঘটনা। আহত তরুণের নাম রাসেল। তার বাবা মো. মফিজ উদ্দিন ফুলবাড়িয়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন—ইমরান হক তুষার, আব্দুল মান্নান, হুমায়ুন কবির, জিয়াউল হক দুলু, সুরুজ খা ও রাব্বী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তুচ্ছ বিষয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে বাড়ি ফেরার পথে রাসেলকে একদল লোক পথরোধ করে। এরপর ইমরান হক তুষার ছুরি দিয়ে রাসেলের তলপেটে আঘাত করে, যার ফলে মলত্যাগের পথ কেটে যায়। বাকি আসামিরা লাঠি, রড ও দা দিয়ে রাসেলের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে। ঘটনাস্থলে রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রাসেলকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারে তার পেটে বাইপাস সার্জারি করতে হয়েছে। বর্তমানে সে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
রাসেলের বাবা বলেন, “ছেলেটার শরীর কেটে ফেলেছে ওরা। এখনও কথা বলতে পারে না। চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম—তাই কিছুটা দেরিতে থানায় এসেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ ধরা পড়েনি। আমি শুধু বিচার চাই।”
থানায় অভিযোগ জমা দেওয়ার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মামলা থাকলেও তদন্তে গতি নেই। বরং প্রভাবশালী আসামিরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে নির্বিঘ্নে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, “এই ঘটনার বিচার না হলে সাধারণ মানুষ আর পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে পারবে না।”