স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সাংবাদিক মোঃ শফিকুল ইসলাম (দুখু) বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর চরম সংকটাপন্ন অবস্থা কাটিয়ে কিছুটা শারীরিকভাবে উন্নতির দিকে রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে, তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় তার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে তার নাক ও মুখ দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর তাকে দেশের একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘ চিকিৎসা গ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে। এর মধ্যে রয়েছে,
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল (উত্তরা), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (CMH), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। বর্তমানে তিনি CMH-এ ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন আছেন।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও এখন পর্যন্ত তার রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক দুখু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি আন্দোলনের উত্তাল সময়েও মাঠে থেকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সেই সময়ে তার নির্ভীক সাংবাদিকতা প্রশংসিত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও লাভ করেন।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে সম্মাননা প্রদান করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে ‘জুলাই বার্তাবীর’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
বর্তমানে শারীরিক সংকটের মধ্যেও তার অতীতের সাহসী সাংবাদিকতা ও আন্দোলনকালীন ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন, দুখুর অবস্থা উন্নতির দিকে গেলেও তিনি এখনও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ অবস্থায় তারা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।