মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে ময়মনসিংহের ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের মড়াকুড়ি বাজারে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, কোতোয়ালি থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এমপি পদপ্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন—এই দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
প্রধান অতিথি আবু ওয়াহাব আকন্দ তার বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থান আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়। যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রক্ত বৃথা যাবে না। একটি চারা যেমন ধীরে ধীরে মহীরূহ হয়ে উঠে, তেমনি শহীদদের স্বপ্ন একদিন এদেশে গণতন্ত্রের শেকড় গেড়ে ছায়া দেবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে প্রকৃতি ও রাজনীতির সৌন্দর্যের সংযোগ ঘটিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই আজকের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন কৃষক দলের কোতোয়ালি থানা শাখার আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান 'নির্বিক'।
সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৈবুর রহমান তোতা।
উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বাচ্চু এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মিলন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন খান নাজিম। তিনি বলেন, বৃক্ষ যেমন অক্সিজেন দেয়, তেমনি শহীদের রক্তে পাওয়া গণতন্ত্রের মূল্যবোধ আমাদের মানসিক অক্সিজেন। আজকের এই বৃক্ষরোপণ আত্মিক দায়িত্বের বহিঃপ্রকাশ।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সবাই মিলে ঘাগড়া বাড়েরা কলেজ মাঠে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।
প্রধান অতিথি আবু ওয়াহাব আকন্দ নিজ হাতে প্রথম চারা রোপণ করে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে অন্যান্য নেতাকর্মীরাও একে একে চারা রোপণে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরাও এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে পরিবেশ ও রাজনীতির সংমিশ্রণে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
এই আয়োজনটি রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। সদস্য সচিব তৈবুর রহমান তোতা বলেন, শুধু বক্তব্য নয়, প্রকৃত কাজের মাধ্যমে যে রাজনীতি পরিবেশ ও জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, তারই নিদর্শন হলো এই আয়োজন।”
এই আয়োজনটি বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ—এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুনভাবে আলোকিত করবে, এমনটাই মনে করছেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।