
আব্দুল হক লিটনঃ
বুধবার দুপুরে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় অটো, সিএনজি, মাহেন্দ্র ও বাস চালকদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আলীনূর খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
"শুধু যানবাহন চালানোর দক্ষতা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ও সচেতনতা। সড়কে একজন চালকের ছোট একটি ভুল, বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আমরা হালুয়াঘাটে দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক গড়তে চালকদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।তিনি আরও বলেন,অনেক চালক ট্রাফিক সাইন বুঝেন না বা মানতে চান না। ফলে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই সড়ক নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।”
হালুয়াঘাটসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে অপ্রশিক্ষিত ও কিশোর চালকদের বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং, সিগন্যাল অমান্য এবং লাইসেন্সহীন যান চলাচল—এসব কারণে সাধারণ পথচারীসহ যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া চালকদের অনেকেই জানান,
তারা আগে ট্রাফিক আইনের অনেক নিয়মই জানতেন না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জানতে পারছেন ট্রাফিক সিগন্যাল, ওভারটেকিংয়ের সীমা, হেলমেট ও সিটবেল্টের প্রয়োজনীয়তা, জরিমানা ও দণ্ডের বিধানসহ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো।
প্রশিক্ষণে যা যা শেখানো হয়,ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল চিহ্ন,জরুরি সময়ে করণীয়,নিরাপদ গতিসীমা নির্ধারণ,যাত্রী ওঠা-নামার নিয়ম,লাইসেন্স ও ফিটনেস আপডেট রাখা,পথচারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা।
এই প্রশিক্ষণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সড়ক নিরাপত্তায় একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। নিয়মিত এমন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি ট্রাফিক সচেতন সমাজ গঠন করা সম্ভব। হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের আয়োজন তাই নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।