
ত্রিশালে শিশু বলাৎকার, ঈশ্বরগঞ্জে গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড—র্যাব-১৪’র পৃথক অভিযানে তিন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জে সংঘটিত শিশু বলাৎকার, গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত তিনটি পৃথক মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪, । এসব মামলায় ভিকটিমরা শিশু ও তরুণ, যারা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অভিযুক্তদের একে একে আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামে র্যাবের সিপিএসসি টিম।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিকে অবস্থানরত এক শিশু শিক্ষার্থীকে পায়ুপথে বলাৎকারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মাহাদী হাসান (২১) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। শনিবার (২৮ জুন) রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা (নং-২৪, তারিখ-২৪ এপ্রিল ২০২৫) দায়ের করেন। ঘটনার ছায়াতদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব।
একই দিনে, ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার গণধর্ষণ মামলার ২নং আসামি মোঃ কাউসার মিয়া (২৪) কে গ্রেফতার করে র্যাব। জানা যায়, গত ২৫ জুন সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে একটি খালি দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করে হুমায়ুন ও কাউসার নামের দুই যুবক।
ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫) এর ৭/৯(৩) ধারায় মামলা (নং-১৯, তারিখ-২৮/০৬/২০২৫) করেন। পরে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় অভিযান চালিয়ে কাউসারকে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে, ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকায় ইটভাটায় শ্রমিকের সঙ্গে টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটে একটি হত্যাকাণ্ড। ২৫ জুন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নুর মোহাম্মদ (২৪) কে হত্যা করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। তার ভাই বাদী হয়ে ২৬ জুন ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলা (নং-৩৮) দায়ের করেন।
র্যাব-১৪ এর অভিযানে শনিবার ভোর ৪:৩০টায় হত্যার ২নং আসামি মোঃ সাদেক মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়।
সংঘটিত এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে র্যাবের ত্বরিত পদক্ষেপে অপরাধীরা গ্রেফতার হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। র্যাব জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানান মিডিয়া অফিসার নাজমুল ইসলাম।