মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির লাগামহীন ঘটনায় উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কাটছে ময়মনসিংহ নগরবাসীর। দিন-রাতের ভেদাভেদ ছাড়াই ঘটছে অপরাধ। ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা থেকে শুরু করে আবাসিক মহল্লা—সবখানেই যেন নিরাপত্তাহীনতার ছায়া। সাম্প্রতিক এক মাসের ব্যবধানে হাজারেরও বেশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার তথ্য উঠে আসায় জনমনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নগরীর কাচারিঘাট, গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, ব্রিজ, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিনের আলোতেই দোকান থেকে মালামাল উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটছে। রাতে তালা ভেঙে বাসাবাড়িতে ঢুকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা অকেজো থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শহরের এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গায় চুরির খবর পাচ্ছি। রাতে টহল থাকলেও সব এলাকায় তা চোখে পড়ে না। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান।”
এক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জানান, “ঈদ সামনে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি গেলে বাসা ফাঁকা থাকবে। নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জন উদ্যোগের সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “মাদক ও বেকারত্ব অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সামাজিক নজরদারি ও কমিউনিটি উদ্যোগ বাড়াতে হবে।”
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল্-মামুন জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। “অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
পুলিশের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ১১১টি খুনের ঘটনার মধ্যে ২০টি ছিনতাইকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের ৬০টি মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৪৬৭ জন। তবে নাগরিকদের প্রশ্ন—গ্রেফতার ও অভিযানের পরও কেন কমছে না অপরাধ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—অভিযান-নির্ভর সাময়িক সমাধানের বদলে দীর্ঘমেয়াদি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হোক। যাতে দিন-রাতের আতঙ্ক কাটিয়ে আবারও নিরাপদ নগরী হিসেবে ফিরতে পারে ময়মনসিংহ।