মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পুরাকান্দুলিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পাতাম গ্রামে হাড়িয়া ডুবি নদীর সংযোগ খালের ওপর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দুটি পায়ে হাঁটার কাঠের সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গ্রামবাসীর উল্লাস ও শ্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি ফিতা কেটে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে খাল পার হন। পরে তিনি পাতাম মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ও স্থানীয় জনগণের সাথে কুশল বিনিময় করেন। খালের ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। স্থানীয়দের চাহিদার প্রেক্ষিতে এমরান সালেহ প্রিন্সের ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেতু দুটি নির্মাণ করেন, যার ফলে এখন এলাকাবাসীর চলাচল সহজ হয়েছে।
পরে তিনি পাতাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির কাউন্সিল ও জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বক্তৃতায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শুধু ক্ষমতায় থাকাকালেই নয়, বিএনপি সব সময় জনগণের পাশে থেকেছে। বন্যা, করোনা, শীত কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যে কোনো বিপদে বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার ও জনকল্যাণই বিএনপির ব্রত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিএনপিই একমাত্র দক্ষ ও যোগ্য রাজনৈতিক দল।
তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিলে, দেশ গড়বো মিলে মিশে”—এই স্লোগান আজ থেকে শুরু করছি, ইনশাআল্লাহ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। শুধু শ্লোগান নয়, জনগণের কাছে বিনয়ের সঙ্গে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রান্তিক কৃষক, শ্রমজীবী, বেকার যুবক ও গরিব জনগণের কল্যাণে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রান্তিক কৃষকের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে উৎপাদন ব্যয়সহ সুবিধা প্রদান, ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম তৈরি করে কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণ, পরিবারের গৃহকর্ত্রীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের খাদ্য সহায়তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকারভাতা, আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি, সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও গরিব রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধ প্রদানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আলোকিত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। অবহেলিত হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াও তার দৃষ্টির বাইরে নয়। ইনশাআল্লাহ তারেক রহমানের হাত ধরেই আমরা হালুয়াঘাট–ধোবাউড়াবাসীর দুঃখ মোচন করে জনগণের মুখে হাসি ফুটাবো, শান্তি, সম্প্রীতি ও কর্মমুখর আলোকিত জনপদ গড়ে তুলবো। তিনি বলেন, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাটের উন্নয়নে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, বাইপাস সড়ক, স্টেডিয়াম, পাবলিক লাইব্রেরি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ কলকারখানা স্থাপন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, মাদক–সন্ত্রাস–দুর্নীতিমুক্ত মডেল সংসদীয় এলাকা গড়ে তোলা হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ-১ আসনে “জন প্রতিনিধি কার্যালয়” স্থাপন করা হবে।
জনগণের চাহিদা মোতাবেক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং জনগণের সম্পৃক্ততায়। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা দল, মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে প্রণয়ন ও বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণই বিএনপির ব্রত। যতদিন জিয়া পরিবারের চোখে থাকবে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।
এর আগে এমরান সালেহ প্রিন্স পুরাকান্দুলিয়া বাজার জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে তারেক রহমানের ৩১ দফা তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করেন। পাতাম গ্রামে সেতু উদ্বোধন ও জনসমাবেশেও তিনি লিফলেট বিতরণ করেন।
পুরাকান্দুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সোলায়মান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন—ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, ফরহাদ রব্বানী সুমন, আবদুল কুদ্দুস, মাহবুবুল আলম বাবুল, আবদুল মোমেন শাহীন, রফিকুল ইসলাম, দুলাল মিয়া, আলী হোসেন, যুবদল নেতা আবুল কাশেম ডলার, কৃষক দলের আহবায়ক নয়ন মণ্ডল, ছাত্রদলের আহবায়ক জালাল উদ্দিন ও তাঁতী দলের সদস্য সচিব হাসান শাহ প্রমুখ।