গফরগাঁও থেকে মতিউর রহমান মতি ঃ
পাঁচ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ছোট্ট আলিফ খান (৫) অবশেষে ফিরল—তবে নিথর দেহে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের নিগুয়ারী ইউনিয়নের স্বল্প ছাপিলা গ্রামের এক পুকুর থেকে কচুরিপানার নিচে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির করুণ মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, ভেঙে পড়েছে পরিবার।
রোববার (২২ জুন) বিকেলে পাগলা থানা পুলিশের একটি দল পাশের বাড়ির ওয়াসিম খানের পুকুর থেকে আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে। সে স্বল্প ছাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ও কানন খানের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (১৭ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির উঠানে খেলা করছিল আলিফ। হঠাৎ করেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে পাগলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পাঁচ দিন পর বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে ওয়াসিম খানের পুকুরে কচুরিপানার স্তূপের নিচে ভেসে ওঠে ছোট্ট আলিফের মরদেহ। প্রথমে এক প্রতিবেশী শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করে, এরপর ছুটে আসে পরিবার ও স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে পাগলা থানার ওসি ফেরদৌস আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,
“মরদেহটি ইতোমধ্যে বিকৃত হয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আইনগত সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহতের পরিবার বলছে, আলিফ খুবই শান্ত ও মেধাবী ছিল। প্রতিদিন স্কুলে যেত, খেলাধুলা করত। কারো সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।
একইসঙ্গে স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এ ঘটনাটি রহস্যজনক। শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর এতদিন খোঁজার পরও পুকুরে না পাওয়া গেলেও পাঁচদিন পর হঠাৎ ভেসে ওঠা প্রশ্ন তুলেছে অনেকের মনে।
আলিফের মৃত্যু যেন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো গ্রামবাসীর হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। তার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে মা, বাকরুদ্ধ বাবা। নিখোঁজ আলিফের ফিরে আসার প্রহর গুনে থাকা ছোট দুই চোখ আজ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
এই মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে আছে কোনো রহস্য? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন চাওয়া একটাই—সত্য উদঘাটন হোক, ছোট্ট আলিফের মৃত্যুর বিচার হোক।