নির্বাচিত সরকারই সমাধান—ড. ইউনূসকে ষড়যন্ত্র থামানোর আহ্বান বিএনপি নেতা
নওগাঁ প্রতিনিধি:
“বিচারের নামে বা সংস্কারের নামে বছরের পর বছর পার করে দিলে হবে না। বাংলাদেশের সমস্যার একটাই সমাধান—নির্বাচন। এর কোনো বিকল্প নেই,”—বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, “হাসিনা মাঝে মাঝে বলেন, হঠাৎ করে আবার ফিরে আসবেন। তিনি এখনও নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ভাবেন। আমি বলি, ড. ইউনূস, আপনাকে এই ষড়যন্ত্র থামাতে হবে। নির্বাচন ছাড়া দেশের গণতন্ত্রে ফেরার কোনো পথ নেই।”
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগের মহানগর, জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুস সালাম আরও বলেন, “রাজনীতিতে শুধু ব্যক্তিপ্রীতি দিয়ে চলবে না, দেশপ্রেম আনতে হবে। সত্যিকারের রাজনীতিক সেই, যিনি মানুষকে ভালোবাসেন। বছরের পর বছর পদ আঁকড়ে থাকলেই সংগঠনের উপকার হবে না। স্বৈরাচারিতার জন্ম হয় জবাবদিহিতা না থাকলেই—হাসিনা তার উদাহরণ। বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম। আরও বক্তব্য রাখেন যুবদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এএইচএম ওবায়দুর রহমান চন্দন, কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশসহ রাজশাহী বিভাগ ও জেলার বিভিন্ন স্তরের সিনিয়র নেতারা।
অন্যদিকে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আরেক সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, “বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে কোনো বাধা নেই। তবে ফি নির্ধারণ, কারিকুলাম এবং পাঠ্যসূচি বিষয়ে সরকারের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।”
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত রাজশাহী জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং সর্বজনীন। সরকার এ দায়িত্ব পালন করলেও বেসরকারি খাতে যারা শিক্ষা দিচ্ছে, তাদেরও রেজিস্ট্রেশন এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর শামসুজ্জামান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন।