মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
কুড়িগ্রামের প্রশাসনিক পরিসরে অন্নপূর্ণা দেবনাথের নাম যথেষ্ট সম্মান ও আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিধ্বনিত হয়। নিপা, যিনি দীর্ঘদিন সহকারী কমিশনার ও এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপেই সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও অসাম্প্রদায়িক নীতি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
সরকারি সেবা প্রদান থেকে শুরু করে জনসাধারণের অভিযোগ নিষ্পত্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি কখনোই অন্যায় বা অনিয়মের কাছে মাথা নত করেননি।
শুধু প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নয়, নিপা একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ। ময়মনসিংহ জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে তার সঙ্গীতানুরাগ সকলকে মুগ্ধ করতো। শিক্ষাজীবনে তার সঙ্গীরা প্রায়শই তার শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সূক্ষ্ম উপলব্ধি নিয়ে আলোচনা করতো। এই সংস্কৃতিপ্রেম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সাধারণ প্রশাসক থেকে আলাদা এবং মর্যাদাপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।
শিক্ষা জীবনে তার এক সহপাঠী মাসুদুর রহমান তার জানান, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে একসাথে পড়াশোনা করার সময় আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, নিপা যে কোনো পরিস্থিতিতে ন্যায়ের পথেই অটল থাকে। কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে তিনি আপোষ করেননি। তার এই অদম্য নৈতিক অঙ্গীকার ও সততার ধারাবাহিকতা কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক পরিবেশকে আস্থা ও মর্যাদায় পূর্ণ করেছে।
সম্প্রতি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই বাতিল হওয়ার পর কিছু মহল, যারা তার প্রতি রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ট্যাগ ব্যবহার করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন—যেমন ইসকন বা আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত—তারা নিপাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের প্রচেষ্টা মূলত তাদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ার প্রতিক্রিয়া, যা নিপার সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নৈতিকতার চিত্রকে বিকৃত করতে চায়।
আজ কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিপা, তার সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছ রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং জনসেবায় উদার মনোভাব প্রদর্শনের কারণে কুড়িগ্রামের মানুষ তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।
অন্যায় ও অনিয়মের প্রতি অদম্য বিরোধী মনোভাব, সংস্কৃতি ও কলার প্রতি নিবেদন, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সমন্বয়—এই গুণাবলীর জন্যই অন্নপূর্ণা দেবনাথ কুড়িগ্রামে নৈতিকতার অনন্য প্রতীক এবং নির্ভীক নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।