তপু রায়হান রাব্বি
ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় গত বুধবার (২০শে আগস্ট) সন্ধ্যায় ১৯ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলী ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্মদেন। সেই সন্তানকে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এর মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দত্তক দেওয়া হয় মঙ্গলবার (২৬শে আগস্ট) দুপুরে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবতীর পাগলী মায়ের সন্তানকে তার পরিচয় গোপন রেখে দত্তক দেওয়া হয়েছে। কারণ ওই শিশুর কোনো বৈধ অভিভাবক নেই তার দেখাশোনা করতে পারছেন না পাগলী মা, তাই এ দত্তক দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা জানান, মনটা ভীষণ খারাপ লাগছে। আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি। মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলীরা তো অবুঝ শিশুর মত। তবে ওই যুবতী পাগলীর ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই আমার ফোনে অসংখ্য ফোন এসেছে দত্তকের নেওয়ার জন্য। এছাড়াও দত্তক নিতে আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ জন নিঃসন্তান স্বামী-স্ত্রীর ভাইভা গত রবিবার বিকালে নিতে গিয়ে নিজের ভেতরটা খা খা করে উঠে। সন্তান না হওয়া কতটা কষ্টের। পরে সকল দিক বিবেচনা করে ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে একজনকে সিলেট করে আইনানুগত ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, নবজাতক শিশুটিকে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা ৭ লক্ষ টাকার ব্যাংক ডিপিএস করে দিয়েছেন। এছাড়াও ৪ মাস পর পর ২ বছর পর্যন্ত এবং ১৮ বছর পর্যন্ত ১ বছর পরপর প্রতিবেদ দিয়ে যাবেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে তারা।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শিহাব উদ্দিন খান জানান, দত্তক নেওয়া তার নিজের ব্যক্তিগত ইতিহাস এবং পরিচয়ের বিষয়ে বিভ্রান্ত হতে পারে, যা তাদের আত্মসম্মান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকল দিক বিবেচনা করে তার পরিচয় গোপন রেখে আবেদনের প্রেক্ষিতে একজন ব্যাংকের অফিসার কে আইন অনুগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও ওই যুবতী পাগলীকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক বিভাগে ভর্তি করানো হয়।
তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ তপু রায়হান রাব্বি বলেন, আমরা ফুলপুর থেকে এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসের ১৪ তারিখ অজ্ঞাত পরিচয়হীন মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলীর দুই নবজাতক কন্যাকে ছোট্ট সোনামনি নির্বাস আজিমপুরে পাঠিয়েছিলাম সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে। আর সকল দিক বিবেচনা করে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে এবারের নবজাতক শিশুকে নাম পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশের পূবালী ব্যাংকের কোন এক শাখার কর্মরত এক ব্যক্তিকে দত্তক দেওয়া হয়। যেন পিতা-মাতার আদরে মাতৃত্বের ছায়ায় লালীত-পালীত হয়। ইসলামীক শরীয়াতেও রয়েছে নাম পরিচয় গোপন রেখে পিতৃপরিচয়হীন শিশুর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করা। তাই উভয় ক্ষেত্রেই, শিশুটিকে একটি পরিবারে রাখার মাধ্যমে তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হয়েছে।