তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভাঙা হৃদয় আর শোকের ছায়া যখন গ্রাস করেছে পরিবারগুলোকে—তখনই এক মমতাময় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু—এসব হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শোকসন্তপ্ত ও বিপর্যস্ত এই মানুষগুলোর হাতে সরকারি সহায়তা হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থের চেক ও সেলাই মেশিন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সাদিয়া ইসলাম সীমা নিজ হাতে এই সহায়তা প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশে পরিবারের সদস্যদের চোখে জল আর মুখে কৃতজ্ঞতা—দুটিই একসাথে দেখা গেছে।
এই মানবিক কার্যক্রমে ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মোট ৯টি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ চেক দেওয়া হয়।
পাশাপাশি বালিয়ার পাইস্কা গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ফারুক মিয়া ও রুস্তম আলীকে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়।
এই সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মানবিক মুহূর্তের জন্ম হয়। সদ্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ও সদ্য স্বামীহারা আব্দুল মোতালেবের স্ত্রীকে একটি সেলাই মেশিন তুলে দেন ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক।
এই সময় ইউএনও বলেন,আপনি যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, এজন্যই এই ছোট্ট উপহার। আপনার হাসিই আমাদের সাফল্য।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন এই আয়োজনে।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। শিশু মোরছালিনের পরিবারের সদস্য যখন চেক হাতে তুলে নেন, তখন কান্না চেপে রাখা কঠিন হয়ে যায় উপস্থিত অনেকেরই।
বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই রাষ্ট্রের আসল দায়িত্ব, এ কথা আবারও প্রমাণ করলো ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে শুধু অর্থ নয়, সহমর্মিতা আর আশার আলো পৌঁছে দিয়েছেন ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা ও তাঁর প্রশাসনিক টিম।