তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্থানীয় গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে ধারণ করে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা–২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের ফুলপুরে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সাদিয়া ইসলাম সীমা। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক। এতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধান, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ ফুলপুরের মানুষের কাছে কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও প্রজন্মজাগানিয়া উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম যেন দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই নানা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানমালায় থাকবে মুক্তিযুদ্ধ ও স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক মঞ্চায়ন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি আয়োজন করা হবে আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল খেলা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, দেয়াল লিখন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ ও গুণীজন সংবর্ধনা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পৃথক উপ-কমিটি গঠন করা হবে। নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।
সভায় ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, “জুলাই পুনর্জাগরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি একটি চেতনার বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফুলপুরের নতুন প্রজন্ম নিজেদের শেকড়কে জানুক, জাতীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করুক এবং ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠুক।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৭ দিনের মধ্যে নির্ধারিত কর্মসূচির সময়সূচি ঘোষণা করা হবে এবং তৃণমূল পর্যায়েও অনুষ্ঠানমালার বিস্তার ঘটানো হবে।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ ফুলপুরবাসীর কাছে একটি সম্মিলিত স্মৃতিচারণ ও জাতীয় চেতনা জাগানোর প্রতীক। এটি স্থানীয় পর্যায়ে গণসচেতনতা, ঐতিহাসিক ভাবনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।