নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
“নতুন কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপির পায়ে পারা দিয়ে অযথা ঝগড়া লাগাতে চাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—বিএনপিকে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করা।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার যুগলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া শাহ সুলতান ঈদগাহ মাঠে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সংঘাত নয়, যুক্তির পথে হেঁটে জনগণের ওপর আস্থা রেখে সবাইকে নির্বাচনী ট্রেনে ওঠার আহ্বান জানাই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক শক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবেশ অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে।”
এর আগে দুপুরে খলিশাকুড়ি দাখিল মাদরাসা মাঠে ও রাতে কলাপাগলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথকভাবে বিএনপির ৮ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের সদস্য নবায়ন ও নতুন প্রাথমিক সদস্যদের মাঝে সদস্য রশিদ হস্তান্তর করেন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “চোখ রাঙানো, খোচাখুঁচি বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতির ধারা পাল্টানো যায় না। বরং তাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়, যা আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অনেকেই আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। যারা মাঠে নেমেছে, তারা নতুন খেলোয়াড়—যারা খেলা নয়, খেলার নিয়মই পাল্টাতে চায়। কিন্তু বিএনপি জনগণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, আর সে রাজনীতিতে কোনো ফাঁকিবাজির জায়গা নেই।”
নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “লন্ডন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পর থেকেই কিছু মহল নির্বাচন প্রশ্নে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে—এটাই আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান।”
তিনি বলেন, “শুধু আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না। যুক্তি দিয়ে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদের রক্তের দায়বদ্ধতা মাথায় রেখেই আমাদের পথ চলা। বিএনপি সেই দায়িত্ব নিয়েই সামনে এগোচ্ছে।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুগলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ক্বারী আবুল কাশেম এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব কৃষক আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন খান খোকন, অধ্যাপক মেহেবুবুর রহমান মুকুল, অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আযাদ, রমজান আলী জহির, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক আকিকুল ইসলাম, আবদুল জলিল, আবু তালেব, জাহাঙ্গীর আলম, হযরত আলী, সবুজ মিয়া ও মো. শওকত প্রমুখ।