স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ—দল যখন দুঃসময়ে ছিল, যারা জীবননাশের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন, আজ মনোনয়নপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাদেরই মূল্যায়নের ঘাটতি স্পষ্ট। আর এই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ময়মনসিংহ–২ (ফুলপুর–তারাকান্দা) আসনকে ঘিরে।
স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির ত্যাগী নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান। চার দশকেরও বেশি রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি ছিলেন দলের ভরসা, দুঃসময়ের আশ্রয়। তবুও কেন্দ্রীয় লবিংয়ের কাছে এমন নেতারা বারবার উপেক্ষিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ অনেক কর্মীর।
সৈয়দ এনায়েত উর রহমান বলেন, এরশাদের শাসনামলে যখন অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দল ত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেই কঠিন সময়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার—সবকিছুর মধ্যেও যারা দলের পতাকা রক্ষা করেছিলেন, তারা আজও অনেকটাই অবমূল্যায়িত।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৭ সালের ১/১১ রাজনৈতিক সংকটের সময়ও একই দৃশ্য। সংস্কারের দোহাই দিয়ে যখন শীর্ষ পর্যায়ে বিভক্তি তৈরি হয়, তখন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অনুগত কিছু ত্যাগী নেতাই দলকে ভাঙন থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেই সময় যারা দল বাঁচিয়েছিল, আজ তাদের অবস্থান কোথায়?”
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে—প্রভাবশালীদের আশ্রয়, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা। দলের দুঃসময়ের সঙ্গীকে বাদ দিয়ে বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দিলে মাঠে নেতিবাচক ফল আসবে।
অ্যাডভোকেট এনায়েত উর রহমান বিএনপির এক নিবেদিতপ্রাণ ও ক্লীন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত বলে মনে করেন তিনি। তার নেতৃত্বে ২০০১ সালে ফুলপুর–তারাকান্দা আসনে প্রথমবার ধানের শীষ বিজয়ী হয়।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি সদস্য,
যুগ্ম আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি (২০০৯), আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ বার ইউনিট আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব, অবিভক্ত ফুলপুর উপজেলা বিএনপি (১৯৯৮)
আহ্বায়ক, ফুলপুর পৌর বিএনপি (২০১২)
২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮—পরপর তিনবার মনোনয়নের প্রতীক্ষায় থেকেও তিনি কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে যাননি। বরং ছিলেন সংগঠনমুখী, নীরব ও স্থির।
তৃণমূলের দাবী ‘এনায়েত ভাইয়ের মূল্যায়ন হলে মাঠে ঐক্য ফিরবে’
ফুলপুর ও তারাকান্দার বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা বলেন, যারা বিপদের দিনে বিএনপিকে ধরে রেখেছিল, আজ তারা যেন বঞ্চিত না হয়। বিতর্কিতদের চাপিয়ে দিলে সংগঠন আরও বিভক্ত হবে। যার নামে দুর্নীতি নেই, যার জীবনকথাই ত্যাগ, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
মাঠপর্যায়ের অনেকের মতে, এনায়েত উর রহমানই এ আসনে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ প্রার্থী, যিনি দলকে একীভূত করতে সক্ষম।
সৈয়দ এনায়েত উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি আমাদের শিখিয়েছে, দুর্নীতি বা প্রভাবশালীদের লবিংয়ের ভিত্তিতে গড়া নেতৃত্ব টেকসই হয় না। জনগণের আস্থা যাদের পাশে, তারাই দলকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন,ত্যাগী নেতাদের সম্মান দিলে দল শক্তিশালী হয়; উপেক্ষা করলে দুর্বল হয়।
দলের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করলে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। একাধিক নেতার চাপিয়ে দেওয়া মনোনয়ন সংগঠনে নতুন অস্থিরতা তৈরি করবে।
ফুলপুর–তারাকান্দা আসনে একটাই প্রশ্ন,
ত্যাগী, সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতার মূল্যায়ন কি এবার হবে?
নাকি কেন্দ্রীয় লবিংয়ের ঘূর্ণিতে আবারও বঞ্চিত হবে তৃণমূলের প্রার্থী?