মোঃ আব্দুল হক লিটন ঃ
মাদকবিরোধী অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত ২৩ ও ২৪ জুন জেলার বিভিন্ন থানাধীন এলাকায় চালানো চারটি পৃথক অভিযানে মোট ৯৩ গ্রাম হেরোইন, ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১২টি তাজা কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মোট ৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একজন পালিয়ে যায়।
২৩ জুন রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের কোতোয়ালী থানাধীন ধোপাখোলা মোড় এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে চরপাড়া যাওয়ার পথে একটি সুনির্দিষ্ট স্থানে ওৎ পেতে থাকা দলটি একে একে ৯৩ গ্রাম হেরোইনসহ ৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
রিয়াজ ওরফে নিজুম, মনির উদ্দিন ওরফে মনির, রবিন, সাগর সরকার, কাউছার ও রফিকুল ইসলাম আশিক।
তারা সবাই ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি শহরের অভ্যন্তরে মাদক সরবরাহ এবং খুচরা বিক্রিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।
২৪ জুন রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ভালুকা উপজেলার মামারিশপুর বাজারে আরও একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানকার এক মুদি দোকানের সামনে থেকে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ রাশেদুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল।
২৪ জুন রাত ১টায় কোতোয়ালী থানাধীন শম্ভুগঞ্জ মধ্যবাজার এলাকায় একটি মুদি দোকানের সামনে থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ শফিকুল ইসলাম নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও আগের মাদক সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
২৩ জুন রাত ৯টা ৫ মিনিটে মুক্তাগাছা উপজেলার পঞ্চানন্দবাড়ী এলাকায় মোঃ ফুল মামুদের বসতঘরের পাশে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি তাজা কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ফুল মামুদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে আগেও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহের অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এসআই সোহরাব আলী, এসআই আরিফ হাসান, এসআই ফারুক আহম্মেদ ও এসআই রফিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের এই সক্রিয় তৎপরতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একইসঙ্গে তারা মনে করেন, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় মাদক প্রতিরোধ সম্ভব নয়, এ জন্য পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।
মাদকবিরোধী অভিযানে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করছে—মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই অপরাধ দমন সম্ভব।