
বাহার উদ্দিন /তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। শুক্রবার (২০ জুন) বিকেল ও রাতে ঘটে যাওয়া এ দুটি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। নিহতদের মধ্যে বৃদ্ধা, স্কুলছাত্র, চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় সিএনজি ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। রাতেই ফুলপুর উপজেলার ঢাকা-হালুয়াঘাট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে প্রাণ যায় আরও ৬ জনের।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলপুর উপজেলার বওলা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্যামলী পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি হলেন—ফরিদ আহমেদ (৩৮), পেশায় মাহিন্দ্রাচালক, বাড়ি ফুলপুর কাজিয়াকান্দা গ্রামে।
ফুলপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাদী জানান, “বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাহিন্দ্রার ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে কয়েকজন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।”
আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফুলপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা ও ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল হাদী ।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের রামচন্দ্রপুর হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন যাত্রী।
নিহতরা হলেন, ধোবাউড়া উপজেলার বরাটিয়া গ্রামের জোবেদা খাতুন ও ফুলপুর উপজেলার মদীপুর সুতারপাড়া গ্রামের স্কুল ছাত্র রাকিবুল হাসান।
ঘটনার সময় তারা সবাই সিএনজির যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হন, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
তারাকান্দা থানার ওসি মো. টিপু সুলতান জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করি। নিহতদের মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
ফুলপুর ও তারাকান্দার সড়কজুড়ে শুক্রবার ছিল মৃত্যুর বিভীষিকা। একদিনেই আটজনের প্রাণহানিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো অঞ্চলে। নিহতদের পরিবারগুলো এখন নিঃস্ব, এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতি, নিয়ম না মানা ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত সড়কে কার্যকর গতি নিয়ন্ত্রণ, ডিভাইডার স্থাপন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানান।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকেই মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত, কয়েকজনের হাড় ভেঙে গেছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।”
সড়কে মৃত্যু যেন আর ব্যতিক্রম নয়, প্রতিদিনের বাস্তবতা। ফুলপুর ও তারাকান্দার এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি আবারও দেখিয়ে দিল, আমাদের সড়ক এখনও কতটা অনিরাপদ।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে মুখে যতই স্লোগান থাকুক, বাস্তবে ব্যবস্থা না নিলে এমন কান্না থামবে না কখনো।