তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ফুলপুরে এক রিক্সাচালকের দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ারসহ ১২৫ জন নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য দলীয় নেতাদের মধ্যে একে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা।
গত শনিবার (১২ জুলাই) ফুলপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার রিক্সাচালক আলামীন হোসেন (৩১)। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২০ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলকে প্রতিহত করতে সরকারি নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অস্ত্রসহ আক্রমণ চালায়।
তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক এমপি ও ২০১৪ সালে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী এবং ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গুলি চালায়, ককটেল ফাটায় এবং আন্দোলনকারীদের উপর বর্বর হামলা চালায়। হামলার শিকার হয়ে রিক্সাচালক আলামীন মারাত্মকভাবে আহত হন এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলেও মামলায় উল্লেখ করেন।
আলামীন বলেন, “আমি পথচারী হিসেবে ঘটনাস্থলে ছিলাম। মিছিল দেখেই দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ করেই চারপাশ থেকে গুলি আর ককটেলের শব্দে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই। গুলি লাগে আমার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে। আমি এখনও স্বাভাবিক নই।”
আহতের চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংযুক্ত করে তিনি মামলা দায়ের করেন, যাতে মোট ১২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে নাম রয়েছে নালিতাবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের।
এদিকে, সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ঘটনার দিন আমি বাসা থেকেও বের হইনি। যারা আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত, তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” একই সুরে কথা বলেন আবু বক্কর সিদ্দিকও, “আমার রাজনৈতিক সম্মানহানি করতেই এই অপপ্রচার।”
ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হাদী বলেন, “মামলাটি পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় রুজু হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
এদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, এক সাধারণ রিক্সাচালকের করা এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ শতাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল, নাকি সত্যিকারের ঘটনার প্রতিফলন—সেটি নির্ভর করবে পুলিশি তদন্তের নিরপেক্ষতার উপর।