
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে র্যাব-১৪-এর পৃথক অভিযানে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলার প্রধান পলাতক আসামি এবং মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহতের ঘটনায় ঘাতক গাড়িচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১৪ জানিয়েছেন, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলার প্রধান পলাতক আসামি আকাশ চন্দ্র সাহাকে গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪-এর সদর কোম্পানির একটি দল র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে আকাশ চন্দ্র সাহার পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন ও নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ওই নারীকে ফুসলিয়ে গত ২৩ মার্চ রাতে তার বসতঘরে প্রবেশ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত ১ আগস্ট ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে ছিলেন।
অন্যদিকে, একই পরিবারের তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক প্রধান অভিযুক্ত ও ঘাতক গাড়ির চালক জুয়েল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১-এর যৌথ দল।
র্যাব জানায়, গত ১১ জুলাই দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সিএনবি বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপারের সময় রাকিব হাসান তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি বেপরোয়া অজ্ঞাতনামা গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে একই পরিবারের তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত রাকিব হাসানের ভাই কাইয়ুম ইসলাম অজ্ঞাতনামা গাড়ি ও চালককে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে ঘাতক চালক জুয়েল মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।
পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৪, সিপিসি-১ ময়মনসিংহ এবং র্যাব-১-এর যৌথ আভিযানিক দল মুক্তাগাছার চক নারায়নপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।