নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা আমাদের ইমানী দায়িত্ব। এই ঋণ শোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আশ্রমপাড়া গ্রামের পুরাতন বাজারে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সেলিম শেখের প্রথম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
স্মরণসভায় তিনি বলেন, “হাজারো ছাত্র জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জনগণের বুকে চেপে বসা জগদল পাথর সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খুনি হাসিনা সরকার গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে। এখন সময় এসেছে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের।”
এর আগে এমরান সালেহ প্রিন্স শহীদ সেলিম শেখের পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা জানান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক মিছিলসহকারে ধুরাইল বাজার থেকে শহীদের কবরস্থানে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি শহীদের বাড়িতে কয়েকটি গাছের চারা রোপণ করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্য ভেঙে ফেলে, শহীদদের আত্মা কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। কিছু দল ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বিএনপির বিরুদ্ধে লাগামহীন অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় গেলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদকে ‘বীরের মর্যাদা’ দেওয়া হবে। শহীদদের নামে রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে। আহতদের পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর আরেফিন পাপন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক এম আর আল আমিন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ সেলিম শেখের পিতা কলিম উদ্দিন শেখ, মা সখিনা খাতুন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, মিজানুর রহমান, মোনায়েম হোসেন খান খোকন, উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নিলু, অধ্যক্ষ এখলাস উদ্দিন, প্রভাষক মাসুম বিল্লাহ, সারওয়ার জাহান, মোস্তফা কামাল, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম, ধারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মোবাশ্বিরুল ইসলাম, ধুরাইল ইউনিয়নের শাহরিয়ার হোসেনসহ অনেকে।