ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
“রাষ্ট্র মেরামত করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন বিএনপি জাতিকে দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিএনপি ওয়াক আউট নয়, বুলেট গতিতে কাজ করবে”—এমন দৃঢ় বার্তা দিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “সংস্কারের নামে জোর নয়, চাই সংলাপ ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। একচেটিয়া সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।”
মঙ্গলবার বিকেলে ধোবাউড়া দাখিল মাদরাসা মাঠে উপজেলা শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বিএনপির জাতিকে দেয়া বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা। এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করলেই বাংলাদেশ মুক্ত হবে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চক্র থেকে।”
এর আগে দুপুরে তিনি ধোবাউড়া জেলা পরিষদ ডাকবাংলো হলরুমে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং তৃণমূলের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কর্মী সমাবেশে যোগ দেন।
প্রিন্স বলেন, “বিএনপির মতো বৃহৎ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলকে উপেক্ষা করে কোনো কার্যকর সংস্কার সম্ভব নয়। সরকার যদি বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে সংস্কারের নাটক করতে চায়, তাহলে সেই সংস্কার হবে আখেরে ব্যর্থ। ছোট নিবন্ধনহীন দলের সঙ্গে বিএনপিকে তুলনা করে সরকারের লাভ হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বিএনপির ওয়াক আউট নিয়ে কটাক্ষ করেন, তাদেরই অতীতে আন্দোলনের মাঝপথে লাশ, রক্ত রেখে রাজপথ ছেড়ে যাওয়ার ইতিহাস আছে। অথচ বিএনপি ১৫ বছর ধরে গুম, খুন, নির্যাতন উপেক্ষা করে আপোষহীন আন্দোলন চালিয়ে গেছে।”
কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু সাইদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মফিদুল হক মোহন।
এ সময় বক্তব্য দেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, ফরহাদ রব্বানী সুমন, আবদুল কুদ্দুস, আবদুল মোমেন শাহিন, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, এম আসাদউল্লাহ আসাদ, সৌমিক হাসান সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গনি, দফতর সম্পাদক ফিরোজ নুন, প্রচার সম্পাদক আল আমিন জনি প্রমুখ।
প্রিন্স নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, “শ্রমিক দলের প্রতিটি ইউনিটকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের সময় এখন—সংগঠনই হবে প্রতিরোধের অস্ত্র।”