
নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ
বিএনপি ক্ষমতায় এলে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে স্মৃতি সৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি বলেন, রক্তের ঋণ পরিশোধে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিহাসকে ধরে রাখতেই আমরা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করব।
তিনি সোমবার বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের বাদশা বাজারে শহীদ বিজয় ফরাজীর প্রথম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বিজয় ফরাজী গাজীপুরের মাওনা ওয়াপদা মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
বক্তব্যে প্রিন্স আরও বলেন, জনগণ এখন নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। রোজার আগেই নির্বাচন চাই। জুলাই সনদ ও ঘোষণা বাস্তবায়নের একমাত্র উপায় হচ্ছে একটি নির্বাচিত সরকার। বিএনপি সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ও জটিলতা সৃষ্টি করছে। তারা চায় না নির্বাচন হোক। অথচ জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম করে ব্যবসা করেছে। তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে জনগণের অধিকার, শান্তি, সুশাসন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে গুম-খুনের শিকার সকল শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের পুনর্বাসন, শহীদের নামে সড়ক বা স্থাপনার নামকরণ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুলের সভাপতিত্বে,উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মশিউজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন শহীদ বিজয়ের পিতা সাইদুল ইসলাম ফরাজী, হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহবায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর আলম বিপ্লব, বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা নিলু, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গনি, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাঈমুর আরেফিন পাপন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূরে আলম জনি, সৈয়দুজ্জামান, হারুন অর রশিদ, হাবিবুর রহমান, আব্দুর রশিদ প্রমুখ।
জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত মেহেদী হাসান এবং সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মাসউদ রানাও স্মৃতিচারণ করেন।
স্মরণ সভার আগে এমরান সালেহ প্রিন্স ও নেতৃবৃন্দ শহীদ বিজয় ফরাজীর কবর জিয়ারত করেন, কালো ব্যাজ ধারণ করে কালো পতাকা নিয়ে মৌন মিছিল করেন এবং শহীদের পরিবারকে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। বিজয়ের বাবা-মা ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।
এর আগে সকালে এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাটের কলিয়ানিকান্দায় গারো ব্যাপটিস্ট কনভেনশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মিস্টার সুমন্ত রখোর মা ও টাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রমোদ চিরানের স্ত্রী বিফলা রখোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন। তিনি শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।