নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের খরমা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে মোঃ মাজাহারুল ইসলাম (৩৫) নামের এক আইনজীবীর সহকারীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে খরমা চৌরাস্তার দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তার ডান চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত মাজাহারুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি ময়মনসিংহ শহরের অ্যাডভোকেট আজাদের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একই এলাকার পাঁচ ব্যক্তি—কামরুল ইসলাম, আবু রায়হান, কাউসার, রিয়াজ খা ও আঃ মতিন—একত্রিত হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা, চাকু, শাবল, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ১ নম্বর আসামি কামরুল ইসলাম দা দিয়ে মাথায় কোপ দিলে ডান পাশে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ২ নম্বর আসামি আবু রায়হানের শাবলের ঘাই লাগে বাঁ হাতের কনুইয়ে। ৩ নম্বর আসামি কাউসারের রডের আঘাতে নাকের পাশে রক্তাক্ত জখম হয়। ৪ নম্বর আসামি রিয়াজ খা ধারালো চাকু দিয়ে ডান চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করলে চোখে গুরুতর ক্ষত হয়। এই আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে, আহতকে তাৎক্ষণিকভাবে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এদিকে ৫ নম্বর আসামি আঃ মতিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলার নেতৃত্ব দেন এবং খুনের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাজাহারুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, "এই ঘটনার বিচার করলে বা মামলা করলে যাকে পাব, খুন করে লাশ গুম করে ফেলবো।"
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন আলী আজম খা, আজাহারুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, তোফাজ্জল খান ও শেখ চাঁনসহ আরও অনেকে।
আহতের বড় ভাই আলী আজম খা পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।