মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ঢাকায় কোটি জনতার এক ঐতিহাসিক মহামিলন ঘটবে। এ দিনটি হবে গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রাণের উচ্ছাস, আশা ও উদ্দীপনার দিন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনিকুড়া গ্রামে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল একজন ব্যক্তির দেশে ফেরা নয়, এটি ফ্যাসিস্ট শাসনে নির্বাসনে বাধ্য হওয়া একজন মজলুম নেতার ঘরে ফেরা। যার পেছনে একটি জাতির দীর্ঘশ্বাস, ত্যাগ ও মরনপণ সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বছরের পর বছর মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে তারেক রহমান প্রবাসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তিতে আজ সেই জুলুমের দেয়াল ভেঙে পড়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, জুলুম কখনো চিরস্থায়ী হয় না, আর মজলুমের জয় অনিবার্য।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন ইতিহাসের এক বরপুত্রের বহু প্রতীক্ষিত শুভ আগমনের বার্তা বহন করছে। এই আগমন নতুন সাহস, নতুন শক্তি ও পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যখন আবার গণতন্ত্র ও ভোটের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন জাতির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মনিকুড়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দৌলদ ভূঁইয়া, ইসমাইল ভূঁইয়া, শিক্ষক মঞ্জুরুল হক বিএসসি, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আব্দুর রউফসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ, যুবক ও শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার ব্যাখ্যা তুলে ধরে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রান্তিক কৃষকের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে প্রণোদনা, শস্য-মৎস্য-পোল্ট্রি ও গবাদিপশু বীমা, ইউনিয়নে ধান ক্রয় কেন্দ্র, পরিবারের মায়েদের নামে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য প্রণোদনা, শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের বেকার ভাতা, সরকার গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান, সবার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও গরিব রোগীদের জন্য ৫০ ধরনের বিনামূল্যের ওষুধ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়াও “ওয়ান টিচার–ওয়ান ট্যাব”, “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস”, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তি এবং সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক তৈরির কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি।
“তারেক রহমান গ্রাম ও শহরের তৃণমূল জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। প্রান্তিক কৃষক, নারী, যুবক ও শিক্ষার্থীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটলেই সমগ্র বাংলাদেশ আলোকিত হবে।
মনিকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান স্বাধীন এবং যোগদানকারীদের পক্ষে দৌলদ ভূঁইয়া, ইসমাইল ভূঁইয়া, শিক্ষক মঞ্জুরুল হক বিএসসি ও আব্দুর রউফ।