আব্দুল হক লিটনঃ
নিখোঁজের চারদিন পর অবশেষে জঙ্গল ও পুকুরপাড়ে মিলল ছোট্ট সাদাবের নিথর, দ্বিখণ্ডিত দেহ। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মুক্তিপণ দিয়েও প্রাণে রক্ষা পেল না পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশু সাদাব। নির্মমতার এক হৃদয়বিদারক চিত্রের সাক্ষী হলো পুরো দিঘীরপাড় গ্রাম।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার পাগলা থানার দিঘীরপাড় গ্রামের একটি জঙ্গল ও পাশের পুকুরপাড়ে শিশুটির দ্বিখণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিল ছিন্নভিন্ন। পরিবার, গ্রামবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে ছিল অব্যক্ত শোকের ছায়া।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, সাদাব প্রবাসী আল-আমিনের একমাত্র ছেলে। সে গত শুক্রবার বিকেলে দিঘীরপাড় গ্রামের নানাবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবার প্রথমে ধারণা করেছিল, সে হয়তো কোথাও খেলতে গিয়ে হারিয়ে গেছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। অপরপ্রান্তের কণ্ঠ জানায়— ‘বাচ্চাকে ফেরত চাইলে ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে।’
সাদাবের হতবিহ্বল পরিবার দ্রুত ২৮ হাজার টাকা বিকাশে পাঠায়। অপহরণকারীরা জানায়, গফরগাঁও রেলস্টেশনের পাশে একটি সিএনজি স্টেশনে শিশুটিকে ছেড়ে যাবে তারা। নির্ধারিত সময় ও স্থান অনুযায়ী বহুবার খোঁজ করেও শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে।
চারদিনের অপেক্ষা শেষে আজ ভোরে গ্রামবাসী বাড়ির পাশের জঙ্গলে মরদেহের কিছু অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ জঙ্গল ও পুকুরপাড় থেকে বাকি অংশ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শোকস্তব্ধ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দিঘীরপাড় গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি, এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, "এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে।"
শিশু সাদাবের এই করুণ মৃত্যুর ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে— শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কতটা সচেতন? মুক্তিপণ আদায়ের পরও কেন তাকে হত্যা করা হলো? অপরাধীদের এমন নির্মমতা দেখে গফরগাঁওবাসী বলছে, "এরা মানুষ নয়, হায়েনা।"
সাদাবের রক্তের দাগ শুধু দিঘীরপাড়ের মাটিতে নয়, লেগে থাকলো প্রতিটি বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে। এখন একটাই দাবি— সাদাবের খুনিদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।