
আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহ শহরের কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও তৎপরতায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয়, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার মোট ২৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যেককে আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলায় সোপর্দ করা হয়েছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিবিরুলে সার্বিক তত্ত্বাবধানে, উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপপরিদর্শকদের (এএসআই) নেতৃত্বে মাদক, ডাকাতি, প্রতারণা, মারামারি, চুরি ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে একাধিক অভিযানে রায়হান তানজিল ওরফে বাবু (৩৮), চাঁন মিয়া (৪০), ফরহাদ (৩৫), উজ্জ্বল সরকার (৪৫), রানা (৩০) সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু রয়েছে।
সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন খান মিনার (৪৪)। তিনি ধোবাউড়া থানার সাবেক বাসিন্দা হলেও ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোড এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করছিলেন।
ডাকাতি প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সুমন মিয়া (২৬), সাদ্দাম মিয়া (২১), শরীফুল ইসলাম (২৮), হাসান (২৯), আমিনুল ইসলাম (২১) সহ অন্তত ৬ জনকে। তারা বিভিন্ন গোপন আস্তানায় সংগঠিত হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পেনাল কোডের ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪০৬ ধারায় প্রতারণা ও জাল দলিল সংক্রান্ত মামলায় চর দুর্গাপুর ও ফুলপুর উপজেলার ছয়জন পুরুষ ও নারী আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন: হান্নান, আব্দুল মান্নান, ছালেহা খাতুন, জহুরা খাতুন, জমিলা খাতুন ও রাশেদা খাতুন।
আলোচিত মামলায় গ্রেফতার হন জসিম উদ্দিন (৪০), যার বিরুদ্ধে মারামারি, আহত করা ও হত্যাচেষ্টার ধারাসহ (১৪৩/৩২৬/৩০৭) মামলা রয়েছে।
পুরাতন মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে রানা (৩৯) ও মোছাঃ শারমিনা আক্তার (পতিঃ আনসার রহমান)-কে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল বলেন,মাদক, সন্ত্রাস, জালিয়াতি, ওয়ারেন্টসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ময়মনসিংহ শহরকে একটি নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ময়মনসিংহ শহরে পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে বলে জানান নাগরিক আন্দোলনের নেতারা


















