মোঃ আব্দুল হক লিটন
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাল খনন প্রকল্পের আওতায় দুটি খালের পুনঃখনন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিকল্পিত ও সাশ্রয়ী বাস্তবায়নের ফলে অব্যয়িত প্রায় দেড় কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
হালুয়াঘাট ইউনিয়নের কৈচাপুর-কড়ইকান্দা এলাকায় ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এবং হালুয়াঘাট সদর-কচুন্দরা এলাকায় ৫ দশমিক ০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার জানান, দুটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৩ টাকা। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৮ টাকা। ফলে অব্যয়িত প্রায় দেড় কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় না করে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে যেমন সরকারের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, তেমনি জনগণও একটি টেকসই প্রকল্পের সুফল পাবে।
তিনি আরও বলেন, কাজের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে। পুনঃখনন করা খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থাও ব্যাহত হতো। এখন এসব সমস্যার অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাল খনন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল জনস্বার্থে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আমরা কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয় জনগণ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে পারা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
কৈচাপুর এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, আগে খাল ভরাট থাকায় বর্ষাকালে মাঠে পানি জমে ফসলের ক্ষতি হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানিরও সংকট দেখা দিত। খাল পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষিকাজে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে।
কচুন্দরা এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “বছরের পর বছর খাল ভরাট থাকায় আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এখন খাল পরিষ্কার হওয়ায় পানি দ্রুত নেমে যাবে। এতে আমাদের ভোগান্তি অনেক কমবে।
স্থানীয় তোর জনসাধারণরা বলছেন, শুধু খাল পুনঃখনন করলেই হবে না, এগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দখল-দূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অব্যয়িত সরকারি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগকে তারা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।এ ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুনঃখনন করা খালগুলো বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্রকল্পটির সুফল দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করতে পারবেন এলাকাবাসী।
Bijoy71TV Bijoy71TV