মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই রাতের আঁধারে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল। কখনো অবৈধ বালু পরিবহন, কখনো মাদকের ছড়াছড়ি, আবার কখনো হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল। সাধারণ মানুষ ভয়ে রাতের সড়ক ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করত। তবে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জল হোসেনের সরাসরি মাঠে নামার ফলে চিত্রটা দ্রুত বদলাচ্ছে।
প্রতিদিন দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত কয়েকদিনের অভিযানে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান, রাত প্রায় ১টা ৪৩ মিনিটেও দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃশ্যমান অভিযান চলছে। এ দৃশ্যকে স্থানীয়রা ‘‘অভূতপূর্ব’’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ধোবাউড়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে বালুর ট্রাক চলাচল করত। এ ছাড়া গোপনে মাদক ছড়ানোর অভিযোগও ছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের রাতজাগা অভিযানের ফলে এই কার্যক্রমগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অপরাধীরা গা ঢাকা দিয়েছে, আর সাধারণ মানুষ ফিরে পেয়েছে স্বস্তি।
শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, এই অভিযানের মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ জনসচেতনতা বাড়াচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাচ্ছে এবং অপরাধ দমন করছে।
ধোবাউড়ায় প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, “এভাবে যদি রাতজাগা অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হয়, তাহলে ধোবাউড়া খুব শিগগিরই নিরাপদ এলাকায় পরিণত হবে।” তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাহসী ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতেই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভবিষ্যতেও একইভাবে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
ধোবাউড়ায় রাতজাগা এই অভিযানে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, অপরাধীরা আর কোনো ছাড় পাবে না, জনগণের নিরাপত্তাই প্রশাসনের প্রথম অঙ্গীকার।
Bijoy71TV Bijoy71TV