
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ-১ আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটে ধানের শীষ পরাজিত হয়নি; বরং কোটি কোটি টাকা, মিথ্যাচার ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধোবাউড়া সদরের বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশিষ্টজন ও বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে একই স্থানে উপজেলা বিএনপির নির্বাচন-পরবর্তী কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মী সভায় প্রিন্স বলেন, বিগত নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় অবৈধভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ জনপদের উন্নয়নের স্বপ্ন কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না। তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ সংশ্লিষ্ট নথি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই আইনি লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সত্য কখনো চাপা থাকে না। রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।”
ইফতার মাহফিলে প্রিন্স আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি, কৃষক কার্ড চালু, ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দল-মত নির্বিশেষে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও সীমান্ত অঞ্চলের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রিন্স।
এর আগে কর্মী সভায় স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র ও অবৈধ টাকার প্রভাবে নির্বাচনী ফল প্রভাবিত হয়েছে। তারা নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন হামলা, হুমকি ও চাপের বিষয়ও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ধোবাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল হালিম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আযহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















