রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদার ও সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ধোবাউড়ায় মানববন্ধন

এস.এম বাবর ধোবাউড়া প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় গাজীপুরে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সারা দেশে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ধোবাউড়া উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।

মানববন্ধনে ধোবাউড়া ডিজিটাল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আজহারুল ইসলাম কাজল, ধোবাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিছুর রহমান মানিক, ধোবাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির সরকার, কৃষকদলের আহ্বায়ক নয়ন মন্ডলসহ উপজেলা কর্মরত সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক তুহিনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু সাংবাদিক সমাজের জন্য নয়, গোটা জাতির জন্যই এক অশনিসংকেত। তারা অভিযোগ করেন, দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, যা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। বক্তারা অবিলম্বে তুহিন হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

See also  সভাপতি নূরুল হক, সাধারণ সম্পাদক তান্না নির্বাচিত — দুই প্যানেলের যুগল নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা

এছাড়া তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে, সাংবাদিক হত্যা বন্ধ কর, তুহিন হত্যার বিচার চাই, সাংবাদিকের নিরাপত্তা চাই, প্রভৃতি স্লোগান দেন। পুরো কর্মসূচি জুড়ে ছিল শোক ও ক্ষোভের মিশ্র আবহ।

গত ৭ আগস্ট রাতে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় কাজ করে আসছিলেন এবং সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পরিচিত ছিলেন। সহকর্মীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করছিলেন, যা হত্যার পেছনে বড় কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

See also  হালুয়াঘাটে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আ.লীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকারও করেছেন তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল আসামিকে গ্রেফতার করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with