তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ মূল্যায়ন পদ্ধতি। কিন্তু সেটিই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায়, যেখানে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার কেন্দ্রে অফিস কক্ষে বসে ওএমআর শিট পূরণ করায় দুই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার ( ১৭ জুলাই) আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুলাই, তারাকান্দা উপজেলার ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজে। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট পূরণের পর কেন্দ্র ত্যাগের নিয়ম থাকলেও, পরবর্তীতে দুই শিক্ষক অফিস কক্ষে বসে ওএমআর শিটে নিজে হাতে পূরণ করতে গিয়ে ধরা পড়েন। সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর সত্যতা স্বীকার করেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষক—প্রভাষক মো. জয়নাল আবেদীন খোকা (পদার্থ বিজ্ঞান) ও মো. হাবিবুর রহমান (গণিত)।
ঘটনার বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসাইন জানান, “পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অফিস কক্ষে বসে ওএমআর শিট পূরণ করা হয়েছে—এটি গুরুতর অনিয়ম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বরখাস্তের জন্য সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।”
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টিপু সুলতান বলেন, “আটক দুই শিক্ষক বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। অভিযোগ দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রমের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়, এটি নৈতিকতা ও শৃঙ্খলারও প্রতিচ্ছবি। শিক্ষক যদি নিয়ম ভঙ্গ করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে?
এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য কঠোর তদারকি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণে নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।
Bijoy71TV Bijoy71TV