তারাকান্দায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারকৃত যুবকের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা ও প্রতিপক্ষের লোকজন। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের আগেই এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেছেরা গ্রামে গত ২ জুলাই (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চার বছর বয়সী একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ করে শিশুটির পরিবার। ঘটনার পরপরই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন (১৯) কে গ্রেপ্তার করে।

তবে বিল্লালের গ্রেপ্তারের আগেই এলাকার উত্তেজিত জনতা ও প্রতিপক্ষের লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলায় বসতঘর ভাঙচুর, ঘরে থাকা আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিল্লালের মা সাংবাদিকদের জানান, “আমার ছেলে ভুল করেছে কি না, সেটা প্রমাণ হবে আদালতে। কিন্তু গ্রামের মানুষ আমাদের কোনো সুযোগ না দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে ফ্রি স্টাইলে লুটপাট করেছে। পুলিশ এসে আমাকে পাশের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে। আমিও সরকারের কাছে সন্ত্রাসী হামলার বিচার দাবি করছি। আমি আমার নিজ বাড়িতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিনা,চোখের সামনে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা এখনো আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির পিতা জানান, আসামি কৌশলে তাকে একা পেয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমরা দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তবে লুটপাটের পক্ষে আমরা না। আইন নিজের হাতে নেওয়া উচিত নয়। গ্রামের উত্তেজিত জনতা তাদেরকে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করতে ভাঙচুর করেছে।

এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযুক্তের মাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় যারা ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা জানান, একটি অপরাধের বিচার অন্য অপরাধ দিয়ে করা যায় না। অভিযুক্তের বিচার হবে আদালতে, কিন্তু তার পরিবার কিংবা সম্পত্তির ওপর হামলা আইনের পরিপন্থী।

আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর ও জঘন্য অপরাধ। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা আইনত দণ্ডনীয়। এমন প্রবণতা সমাজে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি অনাস্থা তৈরি করে।

একদিকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট—দুই ঘটনাই সমাজে চরম অসহিষ্ণুতা ও আইনবিরোধী মনোভাবের প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেন উভয় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *