
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গৌরীপুরের রাজনীতি যখন নানা উত্থান–পতন, দ্বন্দ্ব–সংঘাত আর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেত, ঠিক তখনই স্থির, শান্ত আর পরিপক্ক নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠে আসেন অ্যাডভোকেট নুরুল হক।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শুধু একটি দলের রাজনীতি করেননি, করেছেন মানুষের রাজনীতি, করেছেন আদর্শের রাজনীতি। তার পথচলা তাই এক ব্যক্তির গল্প নয়, একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসও বটে।
১৯৭৯ সালের এক তরুণ তখন জেসিডি গৌরীপুর থানার প্রথম কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় রাজনীতি মানে ছিল ঝুঁকি, সংগ্রাম আর আদর্শিক লড়াই। সেই কঠিন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়েই তিনি নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন সংগঠন এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। ছাত্রদলের উপ-সভাপতি হিসেবে সক্রিয় থাকা থেকে শুরু করে যুবদল, পৌর ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার অগ্রযাত্রা ছিল ধৈর্য, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফল।
গৌরীপুরে বিএনপির সাংগঠনিক যাত্রায় যে কয়েকজন নেতা স্থিরতা ও অভিজ্ঞতার ভিত রচনা করেছেন, অ্যাডভোকেট নুরুল হক তাদের মধ্যে সবার সামনে। নব্বই দশকে তিনি গৌরীপুরে বিএনপির গণসংযোগ, আন্দোলন আর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ–৩ (গৌরীপুর) আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হয়ে যে দক্ষতা, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতা তিনি দেখান, তা তাকে জেলা রাজনীতিতে আরও গ্রহণযোগ্যতা এনে দেয়। বর্তমানে তিনি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি’র অন্যতম সদস্য। গৌরীপুর উপজেলা ইউনিটে রয়েছে তার সর্বোচ্চ ক্রমানুসারী অবস্থান।
রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও তিনি সমান সম্মানজনক অবস্থানের অধিকারী। জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ময়মনসিংহে তিনি দুইবার সভাপতি এবং দুইবার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন—যা যে কোনো আইনজীবীর জন্য এক বিরল অর্জন। ব্লাস্ট ময়মনসিংহের সভাপতি, জে. আইনজীবী ফোরামের জেলা সম্পাদকসহ বহু দায়িত্বে তিনি নিষ্ঠা দেখিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া—তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
স্থানীয় আইনজীবী ও রাজনৈতিক মহল বলছে, শুধু একজন নেতা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও তিনি অসাধারণ। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক সময়ে গৌরীপুরের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের শতশত নেতাকর্মী রাজনৈতিক মামলার মুখে পড়লেও অ্যাডভোকেট নুরুল হক কোনো পারিশ্রমিক নেননি। দিন–রাত ছুটে গিয়ে উকিল নোটিশ থেকে বিচার পর্যন্ত সক্রিয় থেকেছেন এবং তার সহায়তায় বহু কর্মী জেলমুক্ত হয়েছে। এ কারণে গৌরীপুরের মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়—“অ্যাডভোকেট নুরুল হক শুধু নেতা নন, দুঃসময়ের ভরসা।”
তার রাজনৈতিক পথচলা শুধু সফলতার গল্প নয়; এতে রয়েছে ত্যাগ, নির্যাতন, প্রতিকূলতা আর মিথ্যা মামলার ভার। আইসিটি আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ নানা ধারায় তাকে হয়রানি করতে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়েছে। আজও বেশ কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। দলের আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তার পাঁচজন সহযোদ্ধাকে হারাতে হয়েছে।
বহুবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তবে এসব প্রতিকূলতা তাকে দুর্বল করেনি; বরং আরও শক্ত করেছে।
রাজনীতির মাঠে তার সক্রিয়তা আজও কমেনি। প্রাথমিক মনোনয়নে স্থান না পেলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। বরং আরও সংগঠিতভাবে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব। গৌরীপুরের অলিগলি, গ্রাম–পাড়া–মহল্লায় তিনি নিজে লিফলেট বিতরণ করছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, দলের পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো ব্যাখ্যা করে চলেছেন। কর্মীরা বলছেন—তার মতো নেতার পাশে দাঁড়ালে সাহস বাড়ে, আশাবাদ জন্মায়।
গৌরীপুরের রাজনীতিতে যে শুদ্ধতা, সাদামাটা জীবনযাপন আর নেতৃত্বের দৃঢ়তা মানুষ খুঁজে ফিরছে—তা অ্যাডভোকেট নুরুল হকের মধ্যেই দেখতে পেয়েছে। আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে গুণগুলো একজন জনপ্রিয় নেতার থাকা উচিত—সততা, ত্যাগ, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আইনি জ্ঞান, জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা—সবই তার মধ্যে রয়েছে।
গৌরীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ একসুরে বলছে—চূড়ান্ত মনোনয়ন যদি একজন ত্যাগী, সৎ, প্রমাণিত এবং জনবান্ধব নেতাকে দিতে হয়, তবে অ্যাডভোকেট নুরুল হকই সেই যোগ্য ব্যক্তি।
দল তাকে মনোনয়ন দিলে গৌরীপুরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় শুরু হবে—এমন বিশ্বাস মানুষের মাঝে প্রবল।
৪৫ বছরের সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী রাজনৈতিক যাত্রা—যা তাকে শুধু নেতা নয়, মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি এক অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছে।
অ্যাডভোকেট নুরুল হক আজ গৌরীপুরের রাজনীতিতে নৈতিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
তার জন্য গৌরীপুরবাসীর একটি প্রত্যাশাই এখন প্রধান, তিনি যেন চূড়ান্ত মনোনয়নের মাধ্যমে নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারেন।


















