
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাবারের জগৎও পাল্টে যাচ্ছে। ফাস্টফুড আর ঝাঁ চকচকে রেস্টুরেন্টের ভিড়ে যখন দেশি খাবারের স্বাদ হারিয়ে যেতে বসেছে, ঠিক তখনই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোজনরসিকদের জন্য স্বস্তির নাম হয়ে উঠেছে ইয়াম্মি ফুড প্যালেস। এখানে ভাত নয়—চাউলের রুটির সঙ্গেই পরিবেশন করা হচ্ছে সুস্বাদু দেশি হাঁসের মাংস ও ঐতিহ্যবাহী গরুর ভুড়ি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেস্টুরেন্টটিতে চোখে পড়ে ক্রেতাদের আনাগোনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রী, চালক ও কর্মজীবী মানুষদের একটি বড় অংশ এখন নিয়মিত ভরসা রাখছেন ইয়াম্মি ফুড প্যালেসে। বিশেষ করে চাউলের রুটির সঙ্গে ঝোলালো দেশি হাঁস কিংবা মসলাদার গরুর ভুড়ি, এই স্বাদ অনেকেরই শৈশব ও গ্রামের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা শুরু থেকেই আলাদা কিছু করার চেষ্টা করেছেন। ভাতের পরিবর্তে চাউলের রুটি রাখার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবারের স্বাদ অটুট রাখা। প্রতিদিন টাটকা উপকরণ সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রান্না করা হয়। কোনো সংরক্ষিত বা বাসি খাবার পরিবেশন করা হয় না বলেও জানান তারা। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবারের স্বাদ ও মানের পাশাপাশি দামও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। অনেকেই বলছেন, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এমন পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট আগে ছিল না। এখন যাতায়াতের ফাঁকে বা কাজের চাপের মধ্যেও নিশ্চিন্তে ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যায়যায় দিন পত্রিকার প্রতিনিধি তরিকুল আসরাফী জানান, “ভাত ছাড়াও যে চাউলের রুটিতে এত ভালো স্বাদ পাওয়া যায়, ইয়াম্মি ফুড প্যালেসে না এলে বুঝতাম না। দেশি হাঁস আর গরুর ভুড়ি একেবারে ঘরের রান্নার মতো। হালুয়াঘাট নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই রেস্টুরেন্ট ইতোমধ্যেই স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশও আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সব মিলিয়ে, ভোজনরসিকদের কাছে ইয়াম্মি ফুড প্যালেস এখন শুধু একটি রেস্টুরেন্ট নয়, বরং চাউলের রুটিতে দেশি হাঁস ও গরুর ভুড়ির মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা দেশি স্বাদের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।


















