
নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে সস্তা জিপিএ-কেন্দ্রিক স্কুলশিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে ভেতর থেকে ধ্বংসের আয়োজন করা হয়েছিল। গণহারে নম্বর দেওয়া, জিপিএ–৫–এর বাম্পার ফলন ও গণপাসের প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। শিক্ষাকে ক্লাসরুম থেকে সরিয়ে রাজনীতি, বাণিজ্যিকরণ ও দিবসনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। গত ১৫ বছরে আওয়ামী স্বৈরাচার হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, যার মাশুল দিচ্ছে দেশের সন্তানরা।
শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এবছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ আফাজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী নূর খান, অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহ হেল মাজেদ বাবু।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আওয়ামী লীগ শিক্ষা কারিকুলামে নীতি-আদর্শহীন, অনৈতিক ও মেধাহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে খাতায় না লিখেও পাশ করিয়ে দেওয়া হতো। নতুন একমুখী কারিকুলাম বহুমুখী শিক্ষাকে ধ্বংস করছে। শিক্ষার নামে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, বই তৈরি হয়েছে বিদেশে, অথচ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাচ্ছে না।
তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ, আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠো। শুধু শিক্ষায় নয়, মানবিকতা, সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হও। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হও।” তিনি আশ্বাস দেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে গণমুখী, জীবননির্ভর বাস্তবমুখী শিক্ষা নীতি প্রবর্তন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, বই ও নগদ অর্থ তুলে দেন অতিথিরা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


















