
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার ৮ নং কামারিয়া ইউনিয়নের চারিয়া বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। কদমতলী, ফতেপুর, হরিপুর ও পূর্ব কামারিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় কৃষিকাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবিকা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবেল মুন্সী নামে এক ব্যক্তি “সুমাইয়া এগ্রো ফার্ম” নাম ব্যবহার করে সরকারি খাস জমি দখল করে প্রায় দুইশত একর জায়গা নিয়ে সেখানে অবৈধভাবে ফিশারি খনন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমিগুলো সরকারি খাস সম্পত্তি, বর্তমান দাগ নং ১০৪৭-এর আওতাভুক্ত হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কার্যকর নজরের বাইরে রয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, চারিয়া বিল ছিল একসময় প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ। বর্ষা মৌসুমে এই বিল দিয়েই আশপাশের গ্রামের পানি নেমে যেত। কিন্তু অবৈধ ফিশারি খননের কারণে বিলের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং পানি দীর্ঘদিন জমে থাকায় ফসল উৎপাদন অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
কদমতলী গ্রামের এক কৃষক জানান, আগে বছরে দুই থেকে তিনবার ধান চাষ হতো, এখন কয়েক বছর ধরে এক মৌসুমের ফসলও ঘরে তুলতে পারছেন না। হরিপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়ে, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটে, কিন্তু ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি সময়ে সময়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। যে কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিকার চাইলেও নানা চাপ ও ভয়ের কারণে মুখ খুলতে পারেন না। এতে করে বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি খাস জমি দখল ও ফিশারি খননের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো তদন্ত বা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি।
তারা মনে করেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা ও তদারকির অভাবেই পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
চারিয়া বিল এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত সরকারি জমি উদ্ধার, অবৈধ ফিশারি উচ্ছেদ, বিল ও খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়ে পুরো অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে।
এদিকে সুমাইয়া এগ্রো ফার্ম এর স্বত্বাধিকারী রুবেল মুন্সিকে বারবার ফোন করে পাওয়া যায়নি ।
চারিয়া বিলের এই সংকট শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


















