
ভালুকা থেকে ফিরে নাবিলা আফরিন ঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উড়াহাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিধবা নারী ও তার পরিবারের ওপর চরম হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ভাই ইব্রাহিম মন্ডল ও জালাল উদ্দিন মন্ডল জমির অংশ জবরদখল করে গাছপালা কেটে ফেলাসহ নানা হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নাজমা ইসলাম।
নাজমা ইসলাম জানান, তার স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে তার ভাসুর সহ অন্যন্যরা তার স্বামীর ক্রয়কৃত এবং পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত প্রায় ১৩০ শতাংশ জমির একটি বড় অংশ জবরদখল করে নেয়। জমির কাগজপত্র চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা জমির কিছু অংশ গোপনে বিক্রিও করে দিয়েছে।
জানা গেছে, চলতি মাসের ২০ ও ২১ জুন জরিপকারী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমির মাপঝোক ও সীমানা নির্ধারণ করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জরিপের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, ২২ জুন প্রতিপক্ষ আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে এসে সীমানা চিহ্ন হিসেবে স্থাপন করা কোঠাগুলো উপড়ে ফেলে এবং প্রকাশ্যে হুমকি দেয়—“জমি দিব না, প্রয়োজনে মরব না হয়- মারব।”
জমি মাপঝোকের কাজ শুরু হলে শুরুতে কিছু অংশ মাপা হয়। তবে এরপরেই দুই ভাই তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে অন্য জায়গায় সরে যায়। মূলত, তাদের উদ্দেশ্য ছিল যেন পুরো জমি আর মাপা না যায় এবং প্রকৃত চিত্র প্রকাশ না পায়। এইভাবে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জমি মাপার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব সৃষ্টি করে। এতে করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো জমির সঠিক সীমা নির্ধারণ করতে পারেনি, যা পরবর্তীতে বিরোধ ও জটিলতা বাড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, আদালতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ না থাকলেও, মৌখিকভাবে প্রতিপক্ষকে বলা হয়েছিল নাজমা ইসলাম প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দিতে। এরপর জমির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ তা তোয়াক্কা না করে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো নানা নাটকীয়তা, তালবাহানা ও হুমকির মাধ্যমে বিষয়টি আরও জটিল করে তুলছে।
নাজমা ইসলাম অভিযোগ করেন, এর আগেও তার স্বামীর ভোগদখলীয় জমিতে থাকা প্রায় ৩০০টি বাঁশ, আম, কাঁঠাল, তালসহ বহু মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১,৮০,০০০ টাকা। জমি বুঝে নিতে গেলে তাকে এবং তার পরিবারকে বারবার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরণের সংঘাত ঘটতে পারে। এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার এখনো আশায় বুক বেঁধে আছে—যেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নিয়ে তাদের জমির ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়।
পাশাপাশি জনমনে প্রশ্ন উঠছে—যখন জমি মাপঝোক, স্বাক্ষীদের উপস্থিতি ও আদালতের মৌখিক নির্দেশনা সত্ত্বেও ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জমির মালিকানা পায় না, তখন আইনের প্রয়োগ কীভাবে বাস্তবে সুরক্ষা দিতে পারবে সাধারণ মানুষকে? এমনটাই প্রশ্ন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের।


















