
আব্দুল হক লিটন ঃ
তারাকান্দা উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত অন্বেষা কোচিং সেন্টার দুই যুগের কাছাকাছি সময় ধরে শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মননশীলতা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুণগত শিক্ষার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের সম্মানে অনুষ্ঠিত হলো রেজাল্ট আলোচনা ও দোয়ার মাহফিল।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন এলাকার স্বনামধন্য আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষানুরাগীরা। সকলের উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শর্ষিনাবাদ দারুজুল্লাৎ ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ সাইদুর রহমান, সানুড়া ইঃ সিঃ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ এমদাদুল হক, শর্ষিনাবাদ দারুচ্ছুন্নাৎ ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হেলাল আহমেদ, সাধুপাড়া দারুল হুদা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন আজমী, শর্ষিনাবাদ দারুচ্ছুন্নাৎ ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী মৌলভী মাওলানা মোঃ আনিছুর রহমান, সানুড়া ইঃ সিঃ আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক (কম্পিউটার) ও অন্বেষা কোচিং সেন্টারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ নুরুল ইসলাম এবং সাধুপাড়া দারুল হুদা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ আবুল কাশেম পলাশ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মাওঃ আব্দুল কাদির আল মারুফ, প্রোপ্রাইটর, আমানত ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, কাশিগঞ্জ বাজার।
অন্বেষা কোচিং সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ ২২ বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও নৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, তাতে অভিভাবকদের আস্থা ও ভালোবাসা বাড়ছে। তারা আরও জানান, সময়োপযোগী পাঠ পরিকল্পনা, সাপ্তাহিক মূল্যায়ন, নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং একান্ত মনোযোগে পাঠদানের মাধ্যমেই অন্বেষা আজ এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।
বিদায়ী শিক্ষার্থীরা আবেগময় কণ্ঠে বলেন, “অন্বেষা শুধু একটি কোচিং সেন্টার নয়, এটি ছিল আমাদের দ্বিতীয় ঘর। এখানকার শিক্ষকরা যেমন কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তেমনি আমাদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বও পালন করেছেন। আমরা গর্বিত যে অন্বেষার ছাত্র ছিলাম।
পরীক্ষার ভয়ে যখন মন ভেঙে পড়ত, তখন অন্বেষার শিক্ষকরাই আমাদের নতুন করে পথ দেখিয়েছেন। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, জীবনের মূল্যবান অনেক শিক্ষা আমরা এখান থেকেই পেয়েছি। এখানে আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিখেছি কীভাবে মানুষ হতে হয়। এই প্রতিষ্ঠান আর এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আজীবন আমাদের হৃদয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠান শেষে পরীক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অগ্রগতি ও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
“অন্বেষা কোচিং সেন্টার কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি তারাকান্দা অঞ্চলের শিক্ষার আশা, অভিভাবকদের আস্থার নাম এবং শিক্ষার্থীদের আলোর দিশারী। শুধু পাঠদানের সীমায় আবদ্ধ নয় এই প্রতিষ্ঠান; বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন গড়ার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও অন্বেষা আজ পরিচিত। বছরের পর বছর ধরে অন্বেষা গড়ে তুলেছে একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যায় ভবিষ্যতের পথে।”


















