
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা সংলগ্ন হাজী রোড এলাকায় কিশোর শিক্ষার্থীদের মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ৮টা থেকে শুরু করে থেমে থেমে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে কয়েকজন কিশোর গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আশপাশের বাসাবাড়ির বাসিন্দারা। কেউ কেউ ভাড়া বাসা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
শুধু মাদকসেবন বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণই নয়, এসব কিশোরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রতিবাদ করলে হত্যা ও মারধরের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে থানা-সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় জানান, ফুলপুর থানা সংলগ্ন হাজী রোডে একটি নুরানি মাদ্রাসার বিপরীতে, কাপড় সেলাইয়ের দোকান ও নতুন ফ্ল্যাটবাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় এসব কিশোরের আনাগোনা বেশি। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন সময় একদল কিশোর জড়ো হয়ে আড্ডা দেয় এবং মাদক সেবন করে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজনের যাতায়াত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় আব্দুল হালিম জানান, হাজী রোডের ওই স্থানেই নয়, ফুলপুর থানা ও আশপাশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গলিতে কিশোরদের এমন আড্ডা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাদের আনাগোনা দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে।
স্থানীয় আবুল কাশেম জানান, বাসাবাড়ির আশপাশে হৈচৈ, বিশৃঙ্খলা এবং কথায় কথায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হত্যা বা খুন-জখমের হুমকির অভিযোগে অনেকে ভয়ে নীরব থাকছেন।
এদিকে এসব কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে আশপাশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে এবং বিশেষ করে রাতে কিশোরদের আড্ডা ও হৈচৈয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেক পরিবারের জন্য। এমন পরিস্থিতিতে কিছু ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অভিযোগে উল্লেখ করা স্থানটি ফুলপুর থানা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। থানা-সংলগ্ন এলাকায় মাদকসেবন, উচ্ছৃঙ্খলতা ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, কিশোর বয়সে মাদকের সংস্পর্শে আসা তাদের ভবিষ্যতের জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার হুমকির অভিযোগ যুক্ত হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
এ বিষয়ে ফুলপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশের এ আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে হাজী রোডসহ থানা-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
Bijoy71 TV Bijoy71 TV