বইয়ের আলো ছড়াক ফুলপুরের প্রতিটি ঘরে”—প্রথম পাবলিক লাইব্রেরির যাত্রা শুরু ঐতিহ্যের মাটিতে

“বইয়ের আলো ছড়াক ফুলপুরের প্রতিটি ঘরে”—প্রথম পাবলিক লাইব্রেরির যাত্রা শুরু ঐতিহ্যের মাটিতে

তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)

জ্ঞান ছড়াক প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, বই হোক প্রতিটি আড্ডার মূল—এই স্বপ্নকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ফুলপুরে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি। ইতিহাস গড়ল উপজেলা প্রশাসন—জনবান্ধব ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমার সাহসী ও মানবিক উদ্যোগে ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই লাইব্রেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশে নির্মাণাধীন এই পাবলিক লাইব্রেরির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
লাইব্রেরি উদ্বোধনের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, যিনি বলেন, “একটি লাইব্রেরি শুধু বইয়ের স্তূপ নয়, এটি একটি জাতিকে আলোকিত করার কারখানা। ফুলপুরে এর যাত্রা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, “এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট। তরুণরা আজ বই বিমুখ—পাবলিক লাইব্রেরি তাদের মধ্যে চিন্তা, মনন ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলবে। উন্নত বিশ্বে যেভাবে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, আমরা চাই তা ফুলপুরেও গড়ে উঠুক।”

তিনি আরও বলেন, “এই লাইব্রেরি হবে একটি মুক্ত চিন্তার চর্চাকেন্দ্র। এটি কিশোর গ্যাং, মাদক, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও মৌলবাদী প্রবণতা থেকে তরুণদের দূরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাঠাগার একটি সভ্য সমাজের প্রতিচ্ছবি—আমরা চাই ফুলপুর সেই সভ্য সমাজের দৃষ্টান্ত গড়ুক।”

জনতার লাইব্রেরি, আলোর বাতিঘর

এই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদি হাসান ফারুক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সবার প্রত্যাশা—পাবলিক লাইব্রেরি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ফুলপুরের সংস্কৃতি, মনন ও চিন্তার জগতকে বদলে দেবে। বইয়ের আলোর নতুন সূর্যোদয় ঘটবে এই ঐতিহ্যবাহী জনপদে।

লাইব্রেরি শুধু একটি ভবন নয়, এটি একটি আন্দোলন। জ্ঞানের আলোকে সামনে রেখে এগিয়ে যাক ফুলপুর, আলোকিত হোক একটি প্রজন্ম—বইয়ের ছায়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *