
মোঃ আব্দুল হক লিটন
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবড়াকুড়া স্থল বন্দরে আয়োজিত নির্বাচনী শ্রমিক সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, শ্রমিকদের ঘামেই দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনীতির অন্যতম অঙ্গীকার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে একটি প্রকৃত শ্রমিকবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে কোনো প্লেজার ট্রিপে ছিলেন না। জরুরি অবস্থার অনৈতিক সরকার ও পরবর্তীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হয়ে তিনি নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যারা তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন, তারা জ্ঞানপাপী বলেও মন্তব্য করেন প্রিন্স।
শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নবীন কিছু রাজনীতিবিদ শিষ্টাচার বহির্ভূত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। যারা তারেক রহমানকে বাস থেকে নেমে অলি-গলি চিনতে বলেন, তারা নিজেরাই বাংলাদেশের গ্রাম-শহরের অলি-গলি কতটা চেনেন—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে কেউ কেউ অবৈধ পথে বিপুল অর্থ কামিয়েছে, অথচ তারেক রহমান নির্বাসিত জীবনেও দেশের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এখনও আছেন।
তারেক রহমান ও বিএনপির ওপর আক্রমণের কারণ জনগণ জানে। তারেক জ্বরে আজ দেশ কাঁপছে, তারেক ম্যাজিকে দেশ ভাসছে। আলোচনায় থাকার জন্যই কেউ কেউ বেফাঁস কথা বলছে। তিনি আরও বলেন, যারা একসময় বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চেয়েছিল, তাদের নেতিবাচক ইমেজের কারণে দল সম্মত না হওয়ায় এখন তারা বিষোদগারে লিপ্ত।
শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকরা এ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের ঘামেই সচল থাকে কলকারখানা, বন্দর ও সীমান্ত বাণিজ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে, শ্রম আইন বাস্তবায়ন করা হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকবান্ধব রাজনীতির সূচনা করেছিলেন এবং নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বন্দরভিত্তিক উন্নয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিল জোরদার করা হবে।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে হালুয়াঘাটের দুইটি স্থল বন্দরে বারো মাস আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের লোড-আনলোড মজুরি বৃদ্ধি, ঝুঁকি তহবিল, উৎসব ভাতা প্রদান এবং শ্রমিক কল্যাণ ভবন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম সামস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলিমুল ইসলাম এবং শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান।
সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থল বন্দরের শ্রমিক নেতারা এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও এমরান সালেহ প্রিন্স দিনব্যাপী হালুয়াঘাট পৌরসভার একাডেমি মোড়ে গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে ভুবনকুড়া ইউনিয়নের লক্ষিকুড়া, মজরাকুড়া, মহিষলেটি, তেলিখালী ও চিনির মোড়ে এবং বিকেলে সাকুয়াই ইউনিয়নের ভাট্টা বাজার, সন্ধ্যায় সাকনাইট বাজার, সাধুর বাজার ও মহিলা বাজারে পথসভা ও গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি টানা ব্রিজ এলাকায় অটো শ্রমিক ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ধারা ইউনিয়নের আশ্রম পাড়া গ্রামে উঠান বৈঠকে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।






















