
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের সীমান্তঘেঁষা জনপদে হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া বহুদিন ধরেই অবহেলিত, পিছিয়ে থাকা, উন্নয়নবঞ্চিত এক অঞ্চল। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা এ জনপদের মানুষের স্বপ্ন, কষ্ট আর সংগ্রাম যেন বারবারই উন্নয়নহীন রাজনীতির আড়ালে চাপা পড়েছে। সেই জনপদের সাধারণ মানুষের সামনে ভিন্ন বার্তা, ভিন্ন পথের আহ্বান নিয়ে হাজির হলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স—একটি নতুন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
মঙ্গলবার বিকেলে হালুয়াঘাট পৌরসভার দক্ষিণ প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, আর পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দুটি মতবিনিময় সভা যেন রূপ নেয় উন্নয়নভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মহাসমাবেশে।
সভায় প্রিন্সের বক্তব্য ছিল সরল, স্পষ্ট ও দৃঢ়, প্রতিহিংসার রাজনীতি শেষ। হালুয়াঘাট–ধোবাউড়ার মানুষ আর বিভাজনের রাজনীতিতে থাকতে চায় না। এখন সময় উন্নয়নের রাজনীতি, মানুষের রাজনীতি করার।”
তিনি বললেন, তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সবার। আমিও বলছি—এই জনপদ সবার। দল–মত–ধর্ম–বর্ণের বিভেদ থাকলে উন্নয়ন আসবে কীভাবে?”
তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে জনপদটির অবহেলার ইতিহাস—রাস্তাঘাট নেই, ড্রেনেজ নেই, পৌরসেবা নেই, চিকিৎসাসেবা অনুন্নত, ব্যবসায়ীরা সুযোগবঞ্চিত, তরুণেরা বেকারত্বে ক্লান্ত।
গারো পাহাড়ের পাদদেশে থাকা এই জনপদ বছরের পর বছর অবহেলিত। এখন সময় বদলের। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে—এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে হালুয়াঘাট–ধোবাউড়াকে এগিয়ে নিতে হবে।
এমন বক্তব্যে স্পষ্ট,একটি পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের নকশা তিনি জনগণের হাতে তুলে দিতে চান।
তিনি ঘোষণা দেন, ধোবাউড়াকে একটি আধুনিক, আলোকিত ও টেকসই জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
হালুয়াঘাট পৌরসভার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রিন্সের তীব্র ক্ষোভ,
“পৌরসভা হয়েছে বহুদিন, কিন্তু দৃশ্যমান উন্নয়ন কোথায়? রাস্তা ভাঙা, ড্রেন নেই, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেই—এ যেন অবহেলার প্রতীক।”
তিনি আশ্বাস দেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে একটি দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য পৌরসভা উপহার দেব। জনগণের টাকার হিসাব জনগণই পাবে।
এমপি হলে নির্বাচিত হবে পুরো জনপদ ও
হালুয়াঘাট–ধোবাউড়ার মানুষ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের নকশা তৈরি করা হবে।
আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, আমরা উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের রাজনীতি করি।
হালুয়াঘাট–ধোবাউড়ার উন্নয়নে আমার জীবন উৎসর্গ করব।
আপনাদের উন্নয়ন আমার দায়িত্ব—আর আমাকে নির্বাচিত করার দায়িত্ব আপনাদের।
তার বক্তব্যের প্রতিটি শব্দে যেন উঠে আসে জনপদের উন্নয়নপিপাসা, সময়ের দাবি এবং পরিবর্তনের প্রত্যয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন,
হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মো. শাকিরুল্লাহ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হোসনেয়ারা নিলু, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর আলম বিপ্লব, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন হুমায়ুন, কবীর, শামসুল আলম শামস, ইসহাক আলী মাস্টার, তাজিকুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক মোল্লা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দুলাল, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান সুজন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরে আলম জনি, সদস্য সচিব তাজবির হোসেন অন্তরসহ স্থানীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


















