ভালুকায় মা ও দুই শিশুকে জবাই করে হত্যা, একদিনের ব্যবধানে দেবর নজরুল গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী ও দুই শিশুকে জবাই করে হত্যা করেছে স্বামী রফিক মিয়ার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম। নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের একদিন পর গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে ঘাতক নজরুলকে গ্রেপ্তার করেছে ভালুকা থানা পুলিশ।

গত ১৪ জুলাই রাতের কোনো এক সময় ভালুকা পৌরসভার টিএন্ডটি রোড এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নিহত ময়না আক্তার (২৫), মেয়ে রাইসা (৫) ও ছেলে নীরব (২) ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় ধারালো বটি দা দিয়ে তিনজনের গলা কেটে জবাই করা হয়। ঘটনার সময় নিহতদের স্বামী মো. রফিক মিয়া ইকরাম সুয়েটারসে নাইট ডিউটিতে ছিলেন।
পরদিন সকালে ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে তালাবদ্ধ গেট দেখে তিনি বারবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত বিছানায় স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ দেখতে পান।

বাসায় থাকা রফিকের ভাই নজরুল ইসলামকে সেখানে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর নিহত ময়নার ভাই জহিরুল ইসলাম ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের নির্দেশে ভালুকা থানার ওসি’র নেতৃত্বে পাঁচটি টিম অভিযান চালায় নেত্রকোনা, শ্রীপুর ও গাজীপুরে। অবশেষে ১৫ জুলাই বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধৃত নজরুল ইসলাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কীর্তনখোলা এলাকার সনতু মিয়ার ছেলে। সে ভালুকা পৌরসভার টিএন্ডটি রোডে হৃদয় হাসান হাইয়ুমের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে নিহতদের সঙ্গে থাকতো। পুলিশ জানায়, নজরুল ভবঘুরে জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত এবং পূর্বেও একটি হত্যা মামলার আসামি ছিল। এ কারণে ঘটনার পর সে আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেপ্তারের পর নজরুলের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা বটি দা, রক্তাক্ত লুঙ্গি, দুটি রক্তমাখা চাদর এবং নিহত ময়না আক্তারের ব্যবহৃত পুরোনো স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ থেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

ভালুকা থানার অফিসার ইনচার্জ ও এসআই মো. আমিনুল হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় নজরুলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত তিনজনের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা ঘাতক নজরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *