
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই—কিন্তু হালুয়াঘাটে কিছু প্রতারক ডাক্তার আর ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে মানুষের জীবন যেন কেবল টাকা বানানোর যন্ত্র!
মাত্র ২২ বছরের এক তরুণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে পড়েন এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদে। ভুল রিপোর্ট ও মিথ্যা রোগ নির্ণয় দেখিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছিল প্রকাশ্যে। কিন্তু ভাগ্যের জোরে শেষ মুহূর্তে সত্য উদঘাটিত হওয়ায় বেঁচে যায় একটি প্রাণ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই যুবককে প্রথমে হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীর উপসর্গ দেখে সরাসরি ‘কিডনি সমস্যা’ সন্দেহ করে স্থানীয় একটি সুনামধন্য দাবিকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। পরীক্ষার রিপোর্টে কিডনির মারাত্মক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই রিপোর্ট হাতে পেয়ে ডাক্তার রোগীকে এক ডজন ইনজেকশন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইনজেকশন প্রয়োগের আগেই রোগীর স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছায় এবং তারা দ্রুত রোগীকে ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন। ময়মনসিংহে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায়—রোগীর কিডনিতে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। এ ঘটনা প্রমাণ করে, ভুয়া রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে মৃত্যুফাঁদে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল।
এই ঘটনায় হালুয়াঘাটের সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি—এই ধরনের প্রতারক ডাক্তার ও ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করতে হবে।


















